জুন মাসের শুরুতেই দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য গতি লক্ষ্য করা গেছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ১,২০৩.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৯৫৬.১৯ মিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে ২৫.৮৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি দেশের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধির প্রতিফলন। একইসঙ্গে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তাও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
শুধু ১০ জুন একদিনেই দেশে এসেছে ১০ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং হুন্ডিসহ অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। এসব উদ্যোগের ফলে প্রবাসীরা এখন আগের তুলনায় বেশি হারে বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন।
চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্রও বেশ আশাব্যঞ্জক। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৮.৪৬ বিলিয়ন ডলার।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৯.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন