উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নগর পরিবহনে নৌপথের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভাসমান হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, এমপি। একই সঙ্গে বৃত্তাকার নৌপথে চলাচলের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণাধীন ওয়াটারবাসের মডেলও দেখেছেন তিনি।
সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন পৌর পার্ক ঘাটে নোঙর করা ‘ইমপ্যাক্ট জীবন তরী ভাসমান হাসপাতাল’ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালটির আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান ও তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
নদীতীরবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ভাসমান হাসপাতালের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। চোখ, নাক-কান-গলা এবং অর্থোপেডিকসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান প্রতিমন্ত্রী। এ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
একই দিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জে প্রাণ-আরএফএল কারখানা পরিদর্শন করেন রাজিব আহসান। সেখানে বৃত্তাকার নৌপথে চলাচলের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণাধীন ওয়াটারবাসের মডেল পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এ সময় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব জলযান চালুর সম্ভাবনা, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং নগর পরিবহনে নৌপথের ব্যবহার বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগর পরিবহনে নৌপথের ব্যবহার বাড়ানো গেলে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব জলযান চালুর মাধ্যমে নৌপথকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
তবে এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবার মান এবং জলযানের উপযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নৌপথের আধুনিকায়ন, নিরাপদ যাত্রীসেবা এবং নগর পরিবহনে জলপথের ব্যবহার বাড়ানোকে সামনে রেখে বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটারবাস চালুর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে নগর পরিবহনে বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি সড়কপথের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন