
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে একটি খোলাচিঠি পাঠিয়ে সরাসরি বা মুখোমুখি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ এই চিঠিতে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, ইউরোপের চলমান যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারে ফেরাতে অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। তার মতে, যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি পুতিনকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি, যেখানে আমরা সরাসরি এই যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে পারি।’
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান সংকটের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত। জেলেনস্কি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা না করে এখনই শান্তির পথে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।
চিঠিতে যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, প্রতিটি প্রাণহানি ইউক্রেনের জন্য গভীর বেদনার কারণ। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কারণে রাশিয়ার সাধারণ জনগণও অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছে।
সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো নিরপেক্ষ দেশকে স্থান হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাবও দিয়েছেন ইউক্রেনীয় নেতা। তার মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক সমঝোতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেলেনস্কির পাঠানো চিঠি তারা গ্রহণ করেছে এবং এর বিষয়বস্তু প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অবহিত করা হবে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈঠক বা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, উভয় পক্ষকে সমঝোতায় পৌঁছাতে কিছু ছাড় দিতে হবে।
পুতিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে রাশিয়ার আংশিক নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। তবে ইউক্রেন এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পুতিন ও জেলেনস্কির মুখোমুখি আলোচনা হলে তা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগে শান্তি আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। ফলে জেলেনস্কির এই নতুন প্রস্তাব রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।