
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ঘটনায়। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ইউনিট কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে কয়েকটি ট্যাংকার অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাদের সতর্ক করা হয়। পরে একটি ট্যাংকারে আঘাত হানার দাবি করা হয় এবং অন্য জাহাজগুলো এলাকা ত্যাগ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই ঘটনার কিছু সময় পর তাদের দুটি টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর জবাব হিসেবেই কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে জবাব আরও কঠোর হবে বলে সতর্ক করেছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায়ভার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর বর্তাবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।