
আমাদের সমাজে অনেকেই কথায় কথায় “আল্লাহর কসম” বা বিভিন্ন শপথ করে থাকেন। কখনো রাগের বশে, আবার কখনো নিজের কথা সত্য প্রমাণ করতে গিয়ে এ ধরনের কসম করা হয়ে যায়। তবে ইসলামে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কসম করা অনুৎসাহিত করা হয়েছে এবং একে মাকরুহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “যে বেশি শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না” (সুরা কলম: ১০)। এ থেকে বোঝা যায়, অযথা শপথ করা ইসলামি দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় নয়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোনো বৈধ কসম ভঙ্গ করলে তার জন্য কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব। কাফফারা আদায় না করলে তা কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কসম ভঙ্গের পর যত দ্রুত সম্ভব কাফফারা আদায় করা উত্তম।
কাফফারা আদায়ের তিনটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, ১০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো। দ্বিতীয়ত, ১০ জন দরিদ্রকে প্রয়োজনীয় পোশাক প্রদান করা। তৃতীয়ত, যদি এ দুটি করার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে ধারাবাহিকভাবে তিনটি রোজা রাখা।
শরিয়াহ অনুযায়ী কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে। ১০ জন মিসকিনকে একসঙ্গে বা আলাদাভাবে খাবার বা পোশাক দেওয়া যেতে পারে। তবে এক ব্যক্তিকে পুরো কাফফারার টাকা একসঙ্গে দিলে তা ১০ জনের জন্য গণ্য হবে না; বরং আলাদাভাবে ১০ দিনের হিসেবে বিতরণ করতে হবে।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, কসম কোনো সাধারণ কথা নয়; এটি আল্লাহর নামে নেওয়া একটি গুরুতর অঙ্গীকার। তাই জেনে-বুঝে কসম ভঙ্গ করলে অবশ্যই কাফফারা আদায় করা আবশ্যক, যাতে আত্মিক শুদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ বজায় থাকে।