
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম পরিচিত মুখ হলেও শিরোপার স্বাদ কখনো পায়নি মেক্সিকো। সর্বোচ্চ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো দলটি আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে। এবারের আসরের পর্দা উঠবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে, যা মেক্সিকোর জন্য শুধুই একটি ম্যাচ নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক পরিসংখ্যান বদলে দেওয়ার সুযোগ।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণের রেকর্ড রয়েছে Mexico national football team–এর। এবার নিয়ে অষ্টমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে তারা। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, আগের সাতটি উদ্বোধনী ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি মেক্সিকানরা।
ইতিহাস বলছে, উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর ভাগ্য খুব একটা সহায়ক ছিল না। কখনো শক্তিশালী ব্রাজিলের কাছে, কখনো সুইডেন কিংবা ফ্রান্সের বিপক্ষে হারতে হয়েছে তাদের। সাত ম্যাচে পাঁচটি পরাজয়ের পাশাপাশি রয়েছে দুটি ড্র। ১৯৭০ সালে নিজেদের মাঠে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল মেক্সিকো। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল উদ্বোধনী ম্যাচ।
মজার বিষয় হলো, ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেক্সিকোর ঘরের মাঠে, যেখানে হাজারো সমর্থকের সমর্থন পাবে স্বাগতিকরা।
এ কারণেই ম্যাচটির গুরুত্ব মেক্সিকোর জন্য দ্বিগুণ। একদিকে বিশ্বকাপের শুভ সূচনা করার সুযোগ, অন্যদিকে উদ্বোধনী ম্যাচে জয়হীনতার দীর্ঘ ইতিহাস ভাঙার সম্ভাবনা। নিজেদের মাঠে এবং পরিচিত পরিবেশে খেলতে নামা মেক্সিকো এবার অতীতের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে।
আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়বে, তখন মাঠে নামা মেক্সিকোর ফুটবলারদের লক্ষ্য থাকবে একটাই—অষ্টম চেষ্টায় প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই অপেক্ষার অবসান হবে কি না, তার উত্তর মিলবে ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরে তাই মেক্সিকোর সমর্থকদের মনে একসঙ্গে কাজ করছে আশা, উত্তেজনা এবং ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রত্যাশা।