
বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করেই ঘটে। তবে চিকিৎসকদের মতে, শরীর একেবারে হঠাৎ করে বিপর্যস্ত হয় না; বরং হার্ট অ্যাটাকের প্রায় এক মাস আগেই বিভিন্ন ধরনের সতর্ক সংকেত দেখা দিতে শুরু করে। সমস্যা হলো, এসব লক্ষণ অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক বা মানসিক চাপ ভেবে উপেক্ষা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্রে সমস্যা শুরু হলে শরীর ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই বার্তা দিতে থাকে। এসব লক্ষণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাকের আগে যে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে তার মধ্যে রয়েছে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত ওজন বৃদ্ধি এবং বমিভাব বা ক্ষুধামান্দ্য। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়, যার ফলে অল্প কাজেই অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
এছাড়া অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ অনেক সময় হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেত বা রক্তচাপজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ঘুমের সমস্যা, ঘন ঘন নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, এমনকি মাড়ির প্রদাহ ও রক্তপাতও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব লক্ষণ শরীরের ভেতরে চলমান প্রদাহ বা রক্তসঞ্চালনের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হলো বুকের ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, যা অনেক সময় বাম হাত, ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া এবং হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনিও রক্তনালীর ব্লক বা সঞ্চালন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপরোক্ত লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক দেখা দিলে বিষয়টিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সময়মতো সতর্কতা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে বড় ধরনের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব।