
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসতেই মাগুরায় শুরু হয়েছে ব্যাপক ফুটবল উন্মাদনা। প্রতি আসরের মতো এবারও নিজের প্রিয় দল জার্মানির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। দীর্ঘ দুই দশকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার তিনি তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির জাতীয় পতাকা, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। বিশাল আকৃতির এই পতাকা দেখতে স্থানীয় গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা ভিড় করেন, যা পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বিশ্বকাপ এলেই আমজাদ হোসেনের এই ফুটবলপ্রেম দেখতে তারা নিয়মিতভাবে এখানে আসেন। তাদের ভাষায়, এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে ফুটবল ভালোবাসার এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
পেশায় কৃষক আমজাদ হোসেনের জার্মান ফুটবল দলের প্রতি এই গভীর ভালোবাসার পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন স্মৃতি। ২০০৫ সালের দিকে তিনি এক কঠিন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী ছিলেন। নানা চিকিৎসার পরেও সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি জার্মানিতে তৈরি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবন করেন। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করেন, আর সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি জার্মানি ফুটবল দলের একনিষ্ঠ ভক্তে পরিণত হন।
আমজাদ হোসেন জানান, ভালোবাসা থেকেই তিনি প্রতি বিশ্বকাপে এই আয়োজন করে আসছেন এবং এর জন্য কখনোই কোনো আর্থিক সহায়তা নেননি। তিনি আরও বলেন, এই বিশাল পতাকা তৈরির জন্য এখন পর্যন্ত নিজের চাষের প্রায় ৩০ শতাংশ জমি বিক্রি করতে হয়েছে।
তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে এই পতাকা উদ্বোধন করেন এবং আমজাদ হোসেনকে জার্মানি ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন।
ফুটবলের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা স্থানীয়দের কাছে এখন এক অনুপ্রেরণার গল্পে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি বিশ্বকাপেই নতুন করে আলোচনায় আসে।