
ফিফা বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর উচ্ছ্বাস, আবেগ ও উৎসব। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞ শুধু ফুটবলপ্রেমীদেরই নয়, ক্রীড়াবিশ্বের প্রায় সব শ্রেণির দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ও দর্শকসংখ্যার বিচারে ফিফা বিশ্বকাপ যে অন্য সব ক্রীড়া আয়োজনের চেয়ে এগিয়ে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে সর্বশেষ পরিসংখ্যানে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের দর্শকসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আয়োজন সুপার বোলকেও অনেক ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ দর্শক। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় আমেরিকান ফুটবল ইভেন্ট সুপার বোলের গড় সরাসরি দর্শকসংখ্যা সাধারণত ১৫ থেকে ২০ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আরও বড় পরিসরে আয়োজন হওয়ায় দর্শকসংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এবারের আসরে দলসংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮-এ উন্নীত হয়েছে এবং ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪। ফলে প্রতিযোগিতার ব্যাপ্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগও।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে টেলিভিশন সম্প্রচার, ডিজিটাল স্ট্রিমিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন। নতুন ফরম্যাট, অধিক ম্যাচ এবং বিস্তৃত ভৌগোলিক অংশগ্রহণের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো উত্তর আমেরিকায় আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় নতুন দর্শকগোষ্ঠীকে ফুটবলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাটির প্রতি আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দেখেছিলেন, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি সংখ্যা। বিশ্লেষকদের ধারণা, এবার বড় অংশের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় দর্শকসংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও অঞ্চলের মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ভূমিকা অনন্য। সেই কারণেই দর্শকসংখ্যা, বাণিজ্যিক মূল্য এবং বৈশ্বিক প্রভাব—সব দিক থেকেই ফিফা বিশ্বকাপ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরের অবস্থান ধরে রেখেছে।