
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি। তার দাবি, উভয় দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে, যার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটানো। তিনি জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা পরবর্তী ধাপে শুরু হবে। বর্তমানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে সামরিক উত্তেজনা হ্রাস, নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং অর্থনৈতিক বাধা কমানোর বিষয়ে।
মার্কিন কর্মকর্তারাও আলোচনার কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, ইরান চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়ন করলে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ পাবে। তবে কোনো আর্থিক সুবিধা আগাম দেওয়া হবে না বলে তারা স্পষ্ট করেছেন।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় প্রণালীটি পুনরায় উন্মুক্ত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরাগচি আরও জানান, আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো নিয়েও পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে চুক্তি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মহলে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই সমঝোতা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর ও ঘোষণা করা হবে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, অতীতের তুলনায় এবার আলোচনায় অগ্রগতি বেশি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।