
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত সোহেলি ইসলাম (৪২) চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন।
গত রোববার (৭ জুন) ভোরে সংঘটিত ওই ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা সোহেলি ইসলাম একটি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিকেল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজধানীর গ্রীন রোড এলাকায় বসবাস করতেন এবং পাশাপাশি স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, পারিবারিক একটি অনুষ্ঠান শেষে মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন সোহেলি। গাবতলীতে নেমে রিকশাযোগে বাসার উদ্দেশে রওনা হলে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পড়ে গিয়ে তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আহত অবস্থায় সাহায্যের জন্য চেষ্টা করা হলেও প্রথমদিকে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে রিকশাচালক ও এক পথচারীর সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় রাজধানীতে ছিনতাই ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।