
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করা মরক্কো। উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে দুই দলই একটি করে গোল করলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ফলে বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত হলো ব্রাজিল।
স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় মরক্কোকে। আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামলেও আক্রমণাত্মক কৌশলে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে তারা। সেই চাপেরই ফল আসে ম্যাচের ২১তম মিনিটে।
মরক্কোর আক্রমণে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত থ্রু পাস ব্রাজিলের ডিফেন্স ভেদ করে পৌঁছে যায় ইসমাইল সাইবারির কাছে। সুযোগ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের দুই সেন্টার-ব্যাককে পেছনে ফেলে গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করেন চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে। তার গোলে ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরক্কো।
তবে ব্রাজিলকে বেশিক্ষণ চাপে রাখতে পারেনি আফ্রিকান দলটি। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে বাম প্রান্তে বল পেয়ে ভেতরের দিকে কেটে আসেন তিনি। এরপর ডান পায়ের দুর্দান্ত শক্তিশালী শটে বল জালের ছাদে পাঠিয়ে সমতায় ফেরান ব্রাজিলকে। গোলরক্ষকের পক্ষে সেই শট ঠেকানো কার্যত অসম্ভব ছিল।
সমতায় ফেরার পর কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় সেলেসাওরা এবং ১-১ স্কোরলাইন নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
বিরতির পর ব্রাজিল নিজেদের খেলার মান কিছুটা বাড়ালেও কাঙ্ক্ষিত জয়ের গোল আর খুঁজে পায়নি। অন্যদিকে প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে মরক্কো। ফলে ম্যাচের শেষ ৪৫ মিনিটে উত্তেজনা থাকলেও আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে উভয় দলই একটি করে পয়েন্ট সংগ্রহ করে। প্রথমার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ শেষে সমান পয়েন্ট ও সমান গোলসংখ্যা নিয়ে অবস্থান করছে দুই দল। তবে তুলনামূলক কম হলুদ কার্ড পাওয়ার সুবাদে ফেয়ার প্লে নিয়মে বর্তমানে গ্রুপের শীর্ষস্থানে রয়েছে মরক্কো, আর তাদের ঠিক পরেই অবস্থান করছে ব্রাজিল।