
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী ব্রাজিলকে আটকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করেছে মরক্কো। তবে ১-১ গোলের ড্রয়ের পরও সন্তুষ্ট নন দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মরক্কো মাঠে নেমেছিল জয়ের লক্ষ্য নিয়েই।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। উচ্চ প্রেসিং, দ্রুতগতির উইং আক্রমণ এবং বল হারানোর পর দ্রুত পুনরুদ্ধারের কৌশলে তারা ব্রাজিলকে বেশ চাপে রাখে। সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন দেখা যায় ২১তম মিনিটে, যখন ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো।
অন্যদিকে নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট ছিল। ক্যাসেমিরো ও লুকাস পাকেতা বল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও আক্রমণে ধার তৈরি করতে হিমশিম খেতে হয়। ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়াকে বারবার নিচে নেমে এসে খেলার সংযোগ গড়ে তুলতে হয়েছে।
মরক্কোর হয়ে মাঝমাঠে দারুণ প্রভাব বিস্তার করেন ব্রাহিম দিয়াজ। পাশাপাশি আশরাফ হাকিমির গতিময় উপস্থিতি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে একাধিকবার সমস্যায় ফেলে। তবে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ায় এবং ৩২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় সমতায় ফেরে।
ব্রাজিলের হয়ে নতুন আক্রমণভাগের ভরসা ইগর থিয়াগো বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে পাওয়া একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করা ব্রাজিলের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে থাকে।
ম্যাচ শেষে মরক্কো কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি বলেন, দলের লক্ষ্য ছিল জয়। তার ভাষায়, খেলোয়াড়রা ভালো ফুটবল খেলেছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল আসেনি। ড্র হলেও ড্রেসিংরুমে হতাশার ছাপ রয়েছে, কারণ সবাই পূর্ণ তিন পয়েন্টের আশায় ছিল।
তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার কারণে ম্যাচের গতি কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিল। তবে এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং সামনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দল ইতোমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছে বলে জানান মরক্কোর এই কোচ।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্রয়ের মাধ্যমে মরক্কো টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কৃতিত্ব স্পর্শ করেছে। বর্তমানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সেরা ধারাবাহিকতা। একই সংখ্যক ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড রয়েছে স্পেনেরও।
গ্রুপ পর্বে মরক্কোর পরবর্তী ম্যাচ ১৯ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২৪ জুন হাইতির মুখোমুখি হবে তারা। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে বাকি দুই ম্যাচে ইতিবাচক ফলের দিকেই তাকিয়ে থাকবে আফ্রিকার দলটি।