অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে দীর্ঘমেয়াদে সমৃদ্ধশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই বর্তমান বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে স্বল্প আয়ের মানুষের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে ধাপে ধাপে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের বর্তমান বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি সরকার বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যাতে উপকারভোগীরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।
তিনি আরও জানান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করার চেষ্টা করছে সরকার। একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি। কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি ছয় মাস অন্তর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা থাকবে না। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাই সরাসরি তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে উপকারভোগী নির্বাচন এবং সেবা বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে সরকার।
সরকারের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সহায়তা নয়, বরং তাদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবেও কাজ করবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।