
দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে আইভরি কোস্ট। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্রুপপর্বের ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী গোলটি আসে বদলি খেলোয়াড় আমাদ দিয়ালোর পা থেকে।
রবিবার অনুষ্ঠিত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ম্যাচজুড়ে তিনবার বল আঘাত হানে ক্রসবারে, যা উভয় দলের আক্রমণভাগের দুর্ভাগ্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে আইভরি কোস্ট কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়।
৫৬তম মিনিটে মাঠে নামা আমাদ দিয়ালো ৯০তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেসকে পরাস্ত করেন। গোলটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উইলফ্রিড সিঙ্গো, যিনি ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে গিয়ে সুযোগ তৈরি করে দেন।
২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আইভরি কোস্টের জন্য এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিজেদের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমে দলটি প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে।
ম্যাচের ৫২তম মিনিটে আইভরি কোস্টের এলিয়ে ওয়াহির শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধে ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়া এবং নিলসন আঙ্গুলোও একইভাবে গোল থেকে বঞ্চিত হন। ফলে ম্যাচজুড়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্যেও গোলের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়।
দর্শক সমর্থনের দিক থেকে ইকুয়েডর কিছুটা এগিয়ে ছিল। স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৬৮ হাজারের বেশি দর্শকের বড় অংশই হলুদ জার্সি পরে নিজেদের দলকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে ম্যাচের পরিবেশ অনেকটাই ইকুয়েডরের ঘরের মাঠের আবহ তৈরি করেছিল।
গোল হজমের আগে পর্যন্ত ইকুয়েডর তুলনামূলকভাবে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে গনসালো প্লাতার দূরপাল্লার জোরালো শট আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন, যা ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে আইভরি কোস্টের আক্রমণে প্রাণ সঞ্চার করেন ইয়ান দিয়োমান্দে। ডান প্রান্ত দিয়ে তার ধারাবাহিক আক্রমণ ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে এবং একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকা আইভরি কোস্ট এই ম্যাচেও তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগের প্রমাণ দিয়েছে। টানা আরেকটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে দলটি।
গ্রুপপর্বের পরবর্তী ম্যাচে আইভরি কোস্টের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। তারা মুখোমুখি হবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির। একই দিনে ইকুয়েডর খেলবে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। ২০ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুই ম্যাচ গ্রুপের সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।