প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং
দুধ দিয়ে গোসল করা কি জায়েজ
আজকের আধুনিক সমাজেও নানা ধরনের লোকাচার ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে কোনো বিপদ, ভুল বা অশুভ ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই এমন কিছু কাজ করেন, যেগুলোর সঙ্গে ইসলামের কোনো ভিত্তি নেই। এর মধ্যে একটি হলো দুধ দিয়ে গোসল করা। অনেকেই মনে করেন, এতে সৌভাগ্য ফিরে আসে বা গুনাহ ও অশুভ প্রভাব দূর হয়।
তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। আলেমদের মতে, দুধ আল্লাহ তাআলার একটি বড় নিয়ামত এবং এটি মূলত খাদ্য ও পানীয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। গোসল বা অন্যভাবে অপব্যবহার করা শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুধ দিয়ে গোসল করা সরাসরি হারাম না হলেও এটি অপছন্দনীয় (মাকরূহ) এবং অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কারণ এতে একটি মূল্যবান খাদ্য নষ্ট করা হয়, যা ইসলাম স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আরাফ: ৩১)
আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সূরা বনি ইসরাইল: ২৮)
এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, যেকোনো উপকারী ও খাদ্যযোগ্য জিনিস অযথা নষ্ট করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই দুধ দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে সেটিকে অপচয় করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত।
এছাড়া দুধ দিয়ে গোসল করলে পাপ মোচন বা অশুভ প্রভাব দূর হয়—এমন বিশ্বাসও ইসলামের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলামে গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য একমাত্র পথ হলো তাওবা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
তবে ত্বকের যত্নে অল্প পরিমাণ দুধ বা দুধ-ভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি এতে অপচয় না হয়। কিন্তু বড় পরিমাণ দুধ দিয়ে গোসল করা বা অযথা নষ্ট করা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, দুধ দিয়ে গোসল করা কোনো ধর্মীয় বিধান নয়, বরং এটি একটি কুসংস্কারমূলক ধারণা। ইসলাম অপচয় ও ভুল বিশ্বাস থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয় এবং সঠিক ইবাদত ও তাওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির নির্দেশ দেয়।