
দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, ইভটিজিং বন্ধ, ‘র্যাগ ডে’র নামে বিশৃঙ্খলা রোধ এবং রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং ‘র্যাগ ডে’র নামে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, সভা-সেমিনার এবং প্রচারপত্র বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের আওতাধীন জেলাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। প্রতিবেদনে জেলার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের হার, ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের তথ্য এবং অভিভাবক সমাবেশের অগ্রগতি উল্লেখ করতে হবে।
এ ছাড়া রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে কী ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, তার সার্বিক বিবরণও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি।