চ্যাম্পিয়নস লিগে লিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি আর্সেনাল। নিজেদের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে খেলা হলেও বিরতির আগে প্রত্যাশিত ছন্দ খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েছিল মিকেল আর্তেতার দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে ফিরে আসে গানাররা। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। শেষ পর্যন্ত লিলকে হারিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে ইংলিশ ক্লাবটি।
লিলের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন এনে দল সাজিয়েছিলেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ননি মাদুয়েকে, এবেরেচি এজে ও ভিক্টর ইয়োকেরেসের মতো খেলোয়াড়েরা। তবে প্রথমার্ধে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করতে পারেননি তাঁরা।
গোল না পাওয়ায় বিরতির আগে আর্সেনালের ওপর চাপ বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোনো পরিবর্তন আনেননি আর্তেতা। নিজের খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখে মাঠে পাঠান একই দলকে। পরে সেই আস্থার প্রতিদান দেন আক্রমণভাগের ফুটবলাররা। গোল করার পর এজে ও মাদুয়েকেকে বদলি করেন কোচ।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে আর্সেনালের গোল উৎসবের সূচনা করেন ডাচ ডিফেন্ডার ইয়ুরিয়েন টিম্বার। ননি মাদুয়েকের পাস থেকে বল পেয়ে লিলের গোলরক্ষক বারকে ওজেরের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ চিপে জালে পাঠান তিনি। এই গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে।
টিম্বারের গোলের মাত্র তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান ইংলিশ ফরোয়ার্ড এবেরেচি এজে। বদলি হিসেবে নামা বুকায়ো সাকার ক্রস থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে পাঠান তিনি। দ্রুত দ্বিতীয় গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় আর্সেনালের খেলোয়াড়দের।
দ্বিতীয় গোলের পরও আক্রমণ থামায়নি আর্সেনাল। ৭১ মিনিটে নিজেই গোল করে দলের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন বুকায়ো সাকা। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে তিনবার লিলের জালে বল পাঠিয়ে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় গানাররা।
প্রথমার্ধে গোলহীন থাকার পর এমন ঝলমলে প্রত্যাবর্তন আর্সেনালের আক্রমণভাগের কার্যকারিতাই তুলে ধরে। অন্যদিকে বিরতির পর দ্রুত তিন গোল হজম করে ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লিল।
চ্যাম্পিয়নস লিগের আগের মৌসুমে লিগ পর্বের আটটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল আর্সেনাল। তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে প্যারিস সাঁ-জার্মেইনের (পিএসজি) কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাদের। এবারও প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী সূচনা করেছে আর্তেতার দল।
লিলের বিপক্ষে জয়ের আগে নাপোলিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল আর্সেনাল। এবার তিন গোলের দাপুটে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। প্রথমার্ধের ধীরগতির খেলা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে গানাররা, তাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে ভালো করার প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।