
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত আবুধাবি টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ। হাতে প্রায় দেড় দিন সময় থাকলেও চতুর্থ ইনিংসে প্রতিপক্ষের সব উইকেট তুলে নিতে পারেনি টাইগাররা। ম্যাচে একাধিক ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচ শেষে হতাশার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ক্যাচ মিস ক্রিকেটের স্বাভাবিক অংশ। কেউ ইচ্ছা করে ক্যাচ ছাড়ে না, সবাই অনুশীলনে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ভালো দল হতে এবং ম্যাচ জিততে হলে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে শিখতে হবে।
টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘ক্যাচ মিস! এগুলো হবেই। কেউ তো ইচ্ছা করে করে না। সবাই চেষ্টা করে অনুশীলনে। এগুলো হবে। তবে যদি ভালো দল হতে চান, ম্যাচ জিততে চান, তাহলে এসব সুযোগ নেওয়া শিখতে হবে।’
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। চা-বিরতির পর আরও তিন-চারটি উইকেট নেওয়ার মতো পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খুব বেশি নেই বলে মনে করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রেখে আরও উইকেট নেওয়া যায়, তা শেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান শান্ত।
জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও পুরো দলের পারফরম্যান্সকে খারাপ বলতে রাজি নন তিনি। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাংলাদেশের বোলারদের পরিশ্রমের প্রশংসা করেন অধিনায়ক।
শান্ত বলেন, ‘ম্যাচ জিততে না পারা অবশ্যই একটু হতাশাজনক। তবে বলব না যে আমরা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছি। বিশেষ করে আজকে বোলাররা যেভাবে কষ্ট করেছে, এই গরমে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই নজর কেড়েছেন লিটন দাস। দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫৩ ও ১০৩ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তার এমন পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটে বিরল বিশ্বরেকর্ডের জন্ম দেয়।
লিটনের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, আগের তিন ইনিংসে ভালো করতে না পারার পর এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো ছিল দারুণ ব্যাপার। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় উইকেটকিপিং করার পরও ব্যাট হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন লিটন।
শান্তর ভাষায়, ‘লিটন ভাই যেভাবে খেলেছে এই ম্যাচ, দারুণ দুটি ইনিংসের সঙ্গে এত লম্বা সময় কিপিং করা, ৯-১০টা ডিসমিসালও ছিল। দারুণ কামব্যাক, (আগের) তিন ইনিংসে ভালো করতে না পারার পর এভাবে ফিরে আসা দারুণ ছিল।’
বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন শান্ত। তার মতে, হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনকে অনেক ওভার বল করতে হয়েছে। ম্যাচের শুরুতে কন্ডিশন দেখে পেসারদের এত দীর্ঘ সময় বোলিং করতে হবে, তা মনে হয়নি।
অন্যদিকে, নাঈম হাসানের বোলিং তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে তার পারফরম্যান্স নিয়ে অধিনায়কের মূল্যায়ন ইতিবাচক। শান্ত জানান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ভালো বোলিং করেছেন। নাঈম কিছুটা দুর্ভাগা হলেও যখনই বল করার সুযোগ পেয়েছেন, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র হওয়া টেস্টে বাংলাদেশের সামনে যেমন জয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে, তেমনি ফিল্ডিংয়ের ভুল শুধরে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর শিক্ষাও রয়েছে।