
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের আওতায় ৩৪২ কোটি টাকার ট্যাবলেট বা প্যাড কেনার কাজ নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ক্ষমতাসীনদের স্বজনদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘এটাই কি তাহলে আই হ্যাভ আ প্ল্যান?’
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্য ৩৪২ কোটি টাকার ট্যাবলেট বা প্যাড কেনার কাজ পেতে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
তাঁর পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়, নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পেয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
দেশের কর্মসংস্থান, বাজার পরিস্থিতি ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান নেই, বাজারে স্বস্তি নেই, বিনিয়োগ নেই— আছে শুধু মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নাম বারবার অনিয়ম ও দুর্নীতির আলোচনায় আসছে। তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে স্বজনদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের সমালোচনা উঠে আসে।
পোস্টে প্রধানমন্ত্রী ১৫০ টাকার মধ্যাহ্নভোজের যে প্রসঙ্গ তুলে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার উপদেশ দিচ্ছেন বলে হাসনাত উল্লেখ করেছেন, তার সঙ্গে মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তুলনা করেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘জনগণকে সাশ্রয়ের নসিহত, আর ক্ষমতাবানদের স্বজনদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ।’
পোস্টের শেষ বাক্যে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরকারের পরিকল্পনা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা করেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কেনাকাটা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, ক্রয়প্রক্রিয়ার তথ্য এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।