
বাংলাদেশের অবকাঠামো, লজিস্টিকস ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বিশেষ করে দেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চায় দেশটি। এ বিষয়ে রোববার ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিলিপ অং।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন ফিলিপ অং।
তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ ও সমন্বয়ের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করা, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় দেশটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় সিঙ্গাপুরের বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার প্রসঙ্গ উঠে আসে। বাংলাদেশের টার্মিনাল উন্নয়ন এবং পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়।
বাংলাদেশের বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে তা বাণিজ্য ও শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ফিলিপ অং বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং শিল্প উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।