
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামির একটি আদালত। ১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করে চারজনকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফ্লোরিডার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের পর পরোয়ানাটি জারি করা হয়। নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। <Cite refs={["turn825968search2","turn825968search3"]}/>
আদালতে জমা দেওয়া তদন্তকারীদের হলফনামা অনুযায়ী, কিউবার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তি মিয়ামি ও কি ওয়েস্টভিত্তিক ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা সংগঠনটির বিমান চলাচলসংক্রান্ত আগাম তথ্য কিউবার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কিউবার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান দুটি বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে বিমান দুটিতে থাকা চারজন নিহত হন।
তদন্তকারীদের দাবি, তৎকালীন কিউবান সামরিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এগুলো মামলার অভিযোগ; আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আগে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। <Cite refs={["turn825968search2","turn825968search1"]}/>
১৯৯৬ সালের ওই ঘটনায় ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ সংগঠনের দুটি ছোট বেসামরিক বিমান ভূপাতিত হয়। সংগঠনটি মূলত কিউবা থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের সহায়তা এবং বিপদে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করার জন্য বিমান পরিচালনা করত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিমান দুটি কিউবার ভূখণ্ডের বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়ছিল। হামলায় নিহত চারজন হলেন কার্লোস কোস্তা, আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, মারিও দে লা পেনা ও পাবলো মোরালেস।
ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় বিমান ভূপাতিত করার অভিযোগ তোলা হলেও কিউবা অতীতে নিজেদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এনে হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল। <Cite refs={["turn825968search1","turn825968news20"]}/>
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম আইনি পদক্ষেপ নয়। চলতি বছরের ২০ মে মার্কিন বিচার বিভাগ ১৯৯৬ সালের বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে অভিযোগ আনার কথা জানায়। ওই মামলায় হত্যার ষড়যন্ত্র, বিমান ধ্বংস এবং চারজনকে হত্যার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সর্বশেষ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পৃথক তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের অংশ। ফলে কয়েক দশক আগের ঘটনাটি নিয়ে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আইনি চাপ তৈরি হয়েছে। <Cite refs={["turn825968search1","turn825968search0"]}/>
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ারের সোমবার মিয়ামিতে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার নথি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
তবে পরোয়ানা জারি হওয়া মানেই রাউল কাস্ত্রো দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে।