
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক সৌদিপ্রবাসীর বাড়ির প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে পরিবারের সদস্যদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। তবে অভিযুক্ত নেতার দাবি, যে জায়গায় বেড়া দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁদের পারিবারিক কবরস্থান। জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
অভিযুক্ত আবদুল হাই শিকদার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গাজীরগাছখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুর মহানগর জামায়াতের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মামুন মোল্লাও একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরবে থাকেন; তাঁর পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মামুন মোল্লার বাড়ির প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, এতে বাড়ি থেকে বের হওয়া ও প্রবেশের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি পরিবারের স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেও কোনো সমাধান পাননি। পরে ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির আশপাশে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। মানববন্ধনে মামুন মোল্লার স্ত্রী আঁখি আক্তারসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন।
আঁখি আক্তারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাড়িতে স্কুলপড়ুয়া ছেলে ছাড়া আর কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য থাকেন না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাড়ির প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়, যার ফলে তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও পুলিশকে অবহিত করেছেন। সোমবার সকালে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। পরিবারের দাবি, প্রবেশপথের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও সন্তানদের পড়াশোনা আরও ব্যাহত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হাই শিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আগের দিন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যে জমিতে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁদের পারিবারিক কবরস্থান।
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাজীরগাছখোলা গ্রামের রুবেল, বাবুল ও জিয়াসহ কয়েকজন তাঁদের জমি জোর করে দখল করে পাকা রাস্তা নির্মাণ করতে চান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটি তাঁদের হওয়ায় সেখানে বেড়া দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে জমির মালিকানা এবং প্রবেশপথের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় নথি ও সরেজমিন তদন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা (দক্ষিণ) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুল মোবিন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দলের যে নেতা সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন, জায়গাটি ওই নেতার নিজের। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও জানান আবদুল মোবিন।
দুই পক্ষের বক্তব্যে জমির মালিকানা ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে জমির দলিল, স্থানীয় নকশা কিংবা অন্য কোনো প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে মালিকানা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, সোমবার সকালে প্রবাসীর স্ত্রী আঁখি আক্তার এবং জামায়াত নেতার পক্ষ থেকে একজন থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
ওসি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে বিরোধটি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে জমির মালিকানা, প্রবেশপথ ব্যবহারের অধিকার এবং বেড়া দেওয়ার কারণে পরিবারের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।