
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে সামরিক সহায়তা চেয়ে মূলত উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) অবস্থান যাচাই করছিলেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোর সহায়তার প্রয়োজন ছিল না; বরং জোটটি কীভাবে সাড়া দেয়, তা বোঝার জন্যই তিনি সহায়তা চেয়েছিলেন। স্থানীয় সময় ২০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। খবর আলজাজিরার।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর কাছে সাহায্য চাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃতপক্ষে সেই সহায়তার প্রয়োজন ছিল না। তাঁর দাবি, ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া যাচাই করতেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে জোটটির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে উল্লেখ করে ন্যাটোর কার্যকারিতা ও ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের অন্তত ২২৯টি যুদ্ধবিমান বিভিন্ন রানওয়েতে ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তাঁর ওই বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি। ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর তথ্য ও স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রভাব নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হামলায় দেশটির প্রথম ও দ্বিতীয় সারির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নির্মূল হয়ে গেছে। পাশাপাশি তৃতীয় সারির নেতৃত্বের অন্তত অর্ধেকও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে কার মাধ্যমে আলোচনা করা হবে বা কার সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব, তা তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির নেতৃত্বের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সমঝোতার জন্য উপযুক্ত প্রতিনিধি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ন্যাটোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে জোটটির কার্যকারিতা নিয়ে নিজের অসন্তোষ পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধে সহায়তা চাওয়ার ঘটনাকে জোটের প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তবে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়ার বিস্তারিত এবং ট্রাম্পের দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে ইরানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও নেতৃত্বের অবস্থা নিয়ে যে দাবিগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।