
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে টেলিভিশন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন (২১) নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৪)। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক মু. মাসুদ রানা।
গ্রেফতার আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়ার ছেলে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে দুর্গাপুরের একাধিক হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত শুটার শামীমের ভাগিনা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি-১৪-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শহীদ মিনার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশিকুর রহমান প্রাঙ্গনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ আইপি টেলিভিশন ‘রুপসী বাংলা’র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন আলিফ।
গত ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুরে স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে নিজের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারী তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এসআরবি-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর পৌরশহরের পুরাতন সিনেমা হল এলাকা থেকে সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব (২৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি-১৪ জানিয়েছে, সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নির্ধারিত হবে।