
ইরানে কোনো দেশ হামলা চালালে পাল্টা সেই দেশেও অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। প্রতিরক্ষানীতিতে পরিবর্তন এনে বাহিনীটি এখন ‘আক্রমণাত্মক কৌশলভিত্তিক’ অবস্থান গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি।
আইআরজিসির মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলা হলে শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকবে না দেশটি। বরং হামলাকারী দেশের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ইরানের পশ্চিম সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সামরিক মহড়া চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে মহড়াটির বিস্তারিত উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরান মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষায় ইরানের কঠোর অবস্থানের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে অবস্থানরত কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পাল্টা অভিযানের হুঁশিয়ারি, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মহড়া এবং সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।