
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১১১ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৫৩ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১৫ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চারজন রয়েছেন। এ ছাড়া কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ২৩ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ৯২ জন এবং সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত মামলায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মাদক বহনকারী এবং ২৬ জন মাদকসেবী। এ ছাড়া নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৫০ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ২৯টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ১৩০ গ্রাম গাঁজা, ৯০ লিটার চোলাই মদ এবং দুই বোতল স্কাফ সিরাপ।
অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ২৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ফেনী থেকে ১৩ জন, চট্টগ্রাম থেকে তিনজন, কুমিল্লা ও নোয়াখালী থেকে দুজন করে এবং লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে একজন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৭৮ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক আটক কিশোর গ্যাং সদস্যদের মধ্যে কুমিল্লায় ১৭৫ জন, চট্টগ্রামে ৯৫ জন, লক্ষ্মীপুরে ৬৩ জন, নোয়াখালীতে ৫৪ জন, চাঁদপুরে ৩৯ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৩ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫ জন, কক্সবাজারে নয়জন এবং রাঙামাটিতে একজন রয়েছেন।
জনস্বার্থে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।