
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে থাকায় বাংলাদেশের বাজারেও দাম কমানো হয়েছে। গত প্রায় দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে ৩৪ হাজার টাকার বেশি। তবে একই সময়ে দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমার পরিমাণে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হিসাব করা হয় আউন্সে। গত ২৫ আগস্ট প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ ডলার। পরে তা কমে ৩ হাজার ৯৯৪ ডলারে নেমে আসে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে, এ সময়ে প্রতি আউন্সে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা। আর প্রতি ভরিতে কমেছে প্রায় ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা।
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম কমানো হয়েছে এবং পাঁচবার বাড়ানো হয়েছে।
টানা সর্বশেষ তিন দফায় দাম কমানোর পর বর্তমানে ভ্যাটসহ বিভিন্ন মানের স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নিচে দেওয়া হলো।
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা
গত ২৫ আগস্ট ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। সেই হিসাবে দুই মাসে এ মানের স্বর্ণের দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা।
স্বর্ণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে দাম কমার পরিমাণ কম হলেও রুপার ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি রুপার দাম কমেছে প্রায় ৭৫৭ টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি রুপার গহনার দাম কমানো হয়েছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা।
বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বর্ণের দামের পার্থক্য নিয়ে বাজুসের বক্তব্য, দেশে স্বর্ণের খনি না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেট বা তেজাবি স্বর্ণের দামের ভিত্তিতে গহনার দাম সমন্বয় করা হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম যতটা কমে, দেশের বাজারেও সব সময় ঠিক একই হারে কমানো সম্ভব হয় না।
অন্যদিকে, বাজুস সভাপতি এনামুল হক দোলন দাবি করেছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম যতটা কমেছে, দেশের বাজারেও ততটাই কমানো হয়েছে। দুই বাজারের দামের হিসাবের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি টেলিফোনে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। বরং আগ্রহীদের বাজুস কার্যালয়ে এসে হিসাব দেখে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
স্বর্ণের গহনা কেনার আগে বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি স্বর্ণের ক্যারেট, গহনার মজুরি, প্রযোজ্য ভ্যাট এবং বিক্রয় রসিদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেই দেশের বাজারে একই অনুপাতে দাম কমবে—এমনটি ধরে না নিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘোষিত মূল্য যাচাই করাই ভালো।