
বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
২০২৬ সালের জুনে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন মেসি। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। <Cite refs={["turn979101search0","turn979101search4"]}/>
পুরস্কারের জুরিবোর্ড মেসিকে ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক শিরোপাজয়ী খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছে। পাশাপাশি তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, দীর্ঘদিনের সাফল্য, বিনয়, দলগত চেতনা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছে। <Cite refs={["turn979101search1","turn979101search2"]}/>
ওভিয়েদোর ক্যাম্পোয়ামর থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাগপাইপ ও ঢোলের শব্দের মধ্যে মেসি পৌঁছালে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থকেরা উল্লাস প্রকাশ করেন এবং তাঁর নামে স্লোগান দেন।
স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনরের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেসি। পরে তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ার ও ফুটবল মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার প্রশংসা করেন প্রিন্সেস লিওনর।
মেসির খেলার ধরন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত অহংকারের ঊর্ধ্বে উঠে দলগত চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোও প্রশংসিত হয়।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে আটটি ব্যালন ডি’অর এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা।
বার্সেলোনায় দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। পেপ গার্দিওলা ও লুইস এনরিকের অধীনে ইউরোপীয় ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পর ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) দুই মৌসুম খেলেন মেসি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক।
মেসির এই পুরস্কার পাওয়ার পেছনে শুধু তাঁর ফুটবলীয় সাফল্যই নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জুরিবোর্ড বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে মেসির ধারাবাহিক দাতব্য কার্যক্রমের কথা। তাঁর ক্রীড়াজীবনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দলগত মূল্যবোধের প্রতিও সম্মান জানানো হয়েছে। <Cite refs={["turn979101search3","turn979101search7"]}/>
পুরস্কার গ্রহণের আগে শিশুদের নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মেসি জয়-পরাজয়কে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। শিল্পকলা, বিজ্ঞান, ক্রীড়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পাশাপাশি মানবিক সহাবস্থান, সংহতি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে রয়েছে একটি ভাস্কর্য, সনদ, সম্মানসূচক ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য। <Cite refs={["turn979101search0","turn979101search3"]}/>
এ বছর বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, সংগীতশিল্পী প্যাটি স্মিথ এবং মার্কিন মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কোচ।
এর আগে ক্রীড়া বিভাগে এই পুরস্কার পেয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন দৌড়বিদ এলিউড কিপচোগে এবং মার্কিন স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।
মেসির এই অর্জন তাই শুধু ব্যক্তিগত ফুটবল সাফল্যের স্বীকৃতি নয়; মাঠের বাইরেও শিশুদের কল্যাণে তাঁর অবদানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।