
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পর ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফার ভোট শেষে ফ্লাভিও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তাঁর দাবি, ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নিয়ম পরিবর্তনের শামিল। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্টিয়ানো জানিন ভোটগ্রহণের সময় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেন। ভোটারদের যাতায়াতে সমস্যার খবর পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফ্লাভিওর অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নির্বাচনে সমতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, লুলা দা সিলভার সঙ্গে জানিনের পূর্ববর্তী পেশাগত সম্পর্কের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে ভোটের সময় বাড়ানোর অনুরোধ শুধু লুলার পক্ষ থেকেই আসেনি; ফ্লাভিওর প্রচারশিবিরও কয়েকটি এলাকায় সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ তখনো চলছিল, সেখানেই সময় বাড়ানোর নির্দেশ কার্যকর করা হয়। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলো পুনরায় খোলা হয়নি।
ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, লুলা দা সিলভা ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৪৪ লাখের বেশি।
নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ফ্লাভিওর আইনি দল কী পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়, তা এখন দেখার বিষয়।