
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ মুনশট এআই তাদের নতুন মডেল কিমি কে৩.১ প্রো চালুর পর ব্যবহারের সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের মাসিক ব্যবহারের কোটার ২৫ শতাংশ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মুনশটের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ কোটা প্রায় এক সপ্তাহের ব্যবহারের সমান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজেদের কিমি অ্যাকাউন্ট থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেয় বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
মুনশট জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক তাঁদের মাসিক কোটার ২৫ শতাংশের কম ব্যবহার করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অব্যবহৃত কোটা শূন্যে নামিয়ে নতুন করে হিসাব করা হবে।
নতুন মডেল চালুর পর ব্যবহারের সীমা আরোপ এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোটা খরচ হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা সামাল দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
কিমি কে৩.১ প্রো ব্যবহারের সময় অপ্রয়োজনীয় সাব-এজেন্ট কল কমাতে এবং এআইয়ের উত্তরের দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন প্যারামিটার সমন্বয় করেছে মুনশট।
সাব-এজেন্ট কল হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে এআইয়ের মূল এজেন্ট কোনো কাজের নির্দিষ্ট অংশ সম্পন্ন করতে অন্য একটি এজেন্টকে দায়িত্ব দেয়। এ ধরনের কল বেশি হলে কম্পিউটিং সম্পদের ব্যবহারও বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে কিমি কে৩ মডেল চালুর পরও কম্পিউটিং সক্ষমতা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
মুনশট ছাড়াও চীনের অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠান কম্পিউটিং সক্ষমতার ঘাটতির মুখে রয়েছে। উন্নত এআই মডেল পরিচালনা ও বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর অনুরোধ সামলাতে প্রচুর কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন হয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত এআই চিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন মডেল চালুর পর ব্যবহারকারীর বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া এবং কম্পিউটিং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিমি কে৩.১ প্রো চালুর পর গ্রাহকদের কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে মুনশট এআই।