
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন সামান্য বেড়ে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে তাঁর সমর্থন নেমে এসেছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশে। রয়টার্স-ইপসোসের সোমবার (২৬ অক্টোবর) শেষ হওয়া নতুন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পরিচালিত এই জরিপে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রধান দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রও উঠে এসেছে।
জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তাঁরা কোন দলকে বেছে নেবেন। জবাবে ৪৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন।
প্রায় ১১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। ১৯ অক্টোবর শেষ হওয়া আগের জরিপের তুলনায় দুই দলের ব্যবধান এক শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের পছন্দ কোন দলের দিকে, তা বিবেচনায় নিলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, এই হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ৯ শতাংশ পয়েন্টে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের লক্ষ্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সুযোগ রয়েছে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। কারণ, জাতীয় পর্যায়ের জনমত ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার হিসাব এক নয়।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে তাঁর নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
জরিপে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি—এমন ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন। এই গোষ্ঠীর ৫৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন।
দলীয় সমর্থকদের ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও ব্যবধান দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে খুবই উৎসাহী। রিপাবলিকানদের মধ্যে একই কথা বলেছেন ৩০ শতাংশ। তবে জরিপে প্রকাশিত আগ্রহ শেষ পর্যন্ত প্রকৃত ভোটদানের হারে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৩ শতাংশ বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় পরিস্থিতি ভুল দিকে এগোচ্ছে—অর্থাৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতি পরিচালনায় কোন দলকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন, সে প্রশ্নেও ডেমোক্র্যাটরা সামান্য এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপে ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, অর্থনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতি ভালো। অন্যদিকে, ৩৩ শতাংশ রিপাবলিকানদের নীতির পক্ষে মত দিয়েছেন।
রয়টার্স-ইপসোসের এই জরিপ অনলাইনে পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেন মোট ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৮০ জন ছিলেন নিবন্ধিত ভোটার।
সব প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতার ক্ষেত্রে জরিপটির ত্রুটিসীমা ২ শতাংশ পয়েন্ট এবং নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ পয়েন্ট। তাই জরিপের ফলাফলকে জনমতের একটি পরিমাপ হিসেবে দেখা উচিত; একে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যায় না।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শেষ মুহূর্তের জনমত—সবকিছুই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।