
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৭ শতাংশ এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। তবে যোগ্য কর্মীদের সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন কোনো লক্ষ্য বা পূর্বাভাস দেয়নি কোম্পানিটি। খবর রয়টার্সের।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মাইক্রোসফটের নতুন ‘ভলান্টারি এক্সিট অফার’ কর্মসূচির ঘোষণা আসে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতের নির্দিষ্ট বিভাগের ৭০ বা তার নিচের স্তরের যোগ্য কর্মীরা স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সুযোগ পাবেন। কর্মসূচিটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকবে।
রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, অর্থ, মানবসম্পদ, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ প্লাস ডিভাইসেস বিভাগের কিছু কর্মী এ প্রস্তাবের আওতায় থাকবেন।
অন্যদিকে বিপণন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের এ কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে সব বিভাগ বা দলের কর্মীরা এতে অংশ নিতে পারবেন না। যোগ্য কর্মীদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলেন, যারা প্রতিষ্ঠানটির বাইরে নতুন কর্মজীবনের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই প্রস্তাব সহায়তা নিয়ে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বিভাগগুলো পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের আরেকটি বিকল্প পাবে।
মাইক্রোসফটের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার। সেই হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার উদ্যোগটি কোম্পানিটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৭ শতাংশকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে এই সংখ্যা চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য কর্মীর হিসাব; বাস্তবে কতজন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গিকওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের স্বেচ্ছায় অবসর কর্মসূচির তুলনায় এবার কম কর্মী প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন বলে প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে।
মাইক্রোসফটসহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে ডেটা সেন্টার, উন্নত চিপ এবং ক্লাউড অবকাঠামোয় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এ খাতে ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফা ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য মাইক্রোসফটের মূলধনি ব্যয়ের পূর্বাভাস ১৭৫ বিলিয়ন ডলার। এ বিনিয়োগের বড় অংশ এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণে ব্যয় হচ্ছে।
তবে এআই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে কতটা আর্থিক মুনাফা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যয় অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কর্মী ও পরিচালন ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাও প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চলতি বছর মাইক্রোসফট কর্মীদের স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার আরেকটি কর্মসূচি চালু করেছিল। ওই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ জন কর্মী যোগ্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
এরপর জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়। ওই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সবক্স গেমিং ব্যবসায় পরিবর্তন আনা হয়। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পর মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি গেম স্টুডিও থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার বা সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
নতুন স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচিটি আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। কর্মীরা আর্থিক সহায়তা ও কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপ পরিকল্পনায় সহায়তা পাবেন।
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাজার লেনদেন শেষ হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে মাইক্রোসফটের। এর আগে কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও কর্মী পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে কতজন কর্মী প্রতিষ্ঠান ছাড়বেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীসংখ্যা ও পরিচালন ব্যয়ের কাঠামো কীভাবে সমন্বয় করা হয়, তা প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।