
জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তমা খাতুনকে হত্যার দায়ে স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া পলাতক ছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জামালপুর সদর উপজেলার দড়ি হামিদপুর এলাকার হমিদুর রহমানের মেয়ে তমা খাতুনের সঙ্গে জনি মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর অটোরিকশা কেনার জন্য স্ত্রীর কাছে আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন জনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তমার ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে জনি মিয়া তমা খাতুনকে মারধর করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তাঁর মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল নিহতের মা উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে জনি মিয়াকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত প্রধান আসামি জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের দড়ি মহলপুর এলাকার বাসিন্দা।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মাহফুজা সুলতানা সাথি।