দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে আবারও জয়ের স্বাদ পেল স্কটল্যান্ড। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে ফিরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় এক সূচনা করেছে স্কটিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় স্কটল্যান্ডকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে তারা দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। জয় পেলে গ্রুপের শীর্ষে ওঠার সুযোগ থাকায় শুরু থেকেই আক্রমণের তীব্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথমার্ধের ২৮তম মিনিটে স্কটল্যান্ড গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে যায়। স্ট্রাইকার চে অ্যাডামসের শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন হাইতির গোলরক্ষক। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটাতে পারেনি হাইতির রক্ষণভাগ। ফিরতি বল বক্সের সামনে পেয়ে যান জন ম্যাকগিন, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি তিনি। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন স্কটল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার।
গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্কটিশরা। অন্যদিকে সমতায় ফেরার জন্য কয়েকবার দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে হাইতি। তবে স্কটল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ফলে ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউরোপের দলটি।
যদিও জয় পেয়েছে স্কটল্যান্ড, তবে পারফরম্যান্সের বিচারে ম্যাচটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বলের দখল ও মাঝমাঠের লড়াইয়ে হাইতি সমানতালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। অনেক সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল তাদের হাতে। আক্রমণের সংখ্যাতেও পিছিয়ে ছিল না ক্যারিবীয় দেশটি। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি স্কটল্যান্ডের পঞ্চম জয়। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। সেই হতাশার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে বিশ্বমঞ্চে ফিরে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নেওয়ায় আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে স্টিভ ক্লার্কের দলের।
জন ম্যাকগিনের একমাত্র গোলেই ইতিহাস গড়া এই জয় এসেছে। তবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও ধারাবাহিক ও কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে স্কটিশদের। তবুও বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা যে স্মরণীয় হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
মন্তব্য করুন