অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আর্জেন্টিনাবিরোধী বক্তব্য দিলেই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ভিসা হবে বাতিল

ছবি; সংগৃহীত



২০২৬ বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সমালোচনা, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও বিতর্কের জেরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এমন একটি জরুরি অধ্যাদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে আর্জেন্টিনাবিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিলে বিদেশিদের দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল কিংবা বহিষ্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। খবর যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এপি।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি মৌখিক বা লিখিত বক্তব্যে আর্জেন্টিনা বা আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বৈষম্য বা সহিংসতা উসকে দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, ভিসা বাতিল করা বা বহিষ্কার করার ক্ষমতাও থাকবে কর্তৃপক্ষের।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের দপ্তর বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা ও আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে জাতি, নাগরিক ও জাতীয় প্রতীক রক্ষা করা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। যিনি আর্জেন্টাইন প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, তাকে আমাদের দেশে স্বাগত জানানো হবে না।’

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশটি এমন বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যারা মৌখিক বা লিখিতভাবে আর্জেন্টিনাবিরোধী ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ান অথবা আর্জেন্টাইন জনগণ কিংবা তাদের জাতীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেন। তবে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, একাডেমিক আলোচনা বা সংবিধানসম্মত সমালোচনার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও নতুন এই সিদ্ধান্তের প্রয়োগ, আইনি ভিত্তি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে দেশটিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কোন বক্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সেটি নির্ধারণের মানদণ্ড কী হবে? সে বিষয়ে অধ্যাদেশে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্কিত রেফারিং, লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ এবং ফাইনালের পর মাঠের ঘটনার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সরকার সেই ঘটনাগুলোকে ‘আর্জেন্টিনা ও আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট মিলেই দাবি করেন, এই ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণার’ পেছনে বিদেশি রাজনৈতিক শক্তির অর্থায়ন রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘এই আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢেলেছে ব্রাজিল সরকার। মোট অর্থায়নের ২৫ শতাংশ এসেছে তাদের কাছ থেকে। তারা আবার আমাকে হস্তক্ষেপ নিয়ে উপদেশ দেয়!’

মিলেই আরও দাবি করেন, ‘এই প্রচারণায় মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও অর্থায়ন করেছে। তারা এমন প্রগতিশীল গোষ্ঠী, যারা স্বাধীনতার ধারণার সাফল্য দেখতে চায় না।’ তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গরমের দিনে চুলের যত্ন নেওয়ার সেরা উপায়গুলো

1

নেতানিয়াহুকে বদ্ধ পাগল ও অকৃতজ্ঞ বললেন ট্রাম্প

2

শুধু ইরানের নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সব মুসলমানের শত্রু: খাম

3

ময়মনসিংহে উদ্ধারকারী ট্রেনও লাইনচ্যুত, রেল চলাচল বন্ধ

4

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রস্তাব রাশেদ খানের

5

বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মহারণ

6

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের সর্বশেষ অবস্থা জানাল পাকিস্তান

7

ইসরায়েলকে মেনে নিলেই সৌদি পাবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি

8

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে একসঙ্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু

9

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে এমবাপ্পে

10

মেসির হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড

11

হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে

12

ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্প

13

কিছু সমীকরণ মিললেই নকআউটে খেলতে পারবে ইরান

14

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

15

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্সে-সামনে কোন দলের কী খেলা

16

ইউরোপীয় প্রিমিয়ার লিগের মালিকানায় ক্রিস গেইল

17

কবে অবসর নেবেন রোনালদো, জানালেন নিজেই

18

বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ ৪ কৌশল

19

অহেতুক ইস্যু বানালে পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম হ

20