ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠেছে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়ে স্বাগতিক মেক্সিকো ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখে স্বাগতিকরা। মাঠের লড়াই শুরুর আগে ছিল বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশ্বখ্যাত শিল্পী শাকিরা, বার্না বয়, জে বালভিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা টাইলার পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে মেক্সিকো। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। নবম মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলেই টুর্নামেন্টের প্রথম গোলের দেখা মেলে। এই গোলের সুবাদে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ৫০তম মিনিটে মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
এর কিছুক্ষণ পরই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ৬৬তম মিনিটে মাঠে নেমে তিনি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তার মাঠে নামার এক মিনিট পরই রাউল হিমিনেজ গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং মেক্সিকোকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
ম্যাচের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ৮৪তম মিনিটে থেম্বা জেওয়ানে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখলে দলটি ৯ জনে নেমে আসে। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে শেষ সময় পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে মেক্সিকো।
অতিরিক্ত সময়ে মেক্সিকোর সেসার মন্তেস লাল কার্ড দেখলেও তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে স্বাগতিকরা।
এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে মেক্সিকো। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বকাপের শুরুটা স্মরণীয় করে রাখল উত্তর আমেরিকার দেশটি।
মন্তব্য করুন