অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইতিহাসের সবচেয়ে ‘ভয়ংকর’ দল নিয়ে ফিরছে ব্রাজিল

ছবি: সংগৃহীত



ডান প্রান্তে এস্তেভাওর চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং, বোকা বানাচ্ছেন একের পর এক ডিফেন্ডারকে। বাঁ দিক দিয়ে ওয়েসলির ঝড়ের গতির দৌড়, মাঝমাঠে আন্দ্রে সান্তোসের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, আর বক্সের ভেতরে জোয়াও পেদ্রো কিংবা কাইও জর্জের ভয়ংকর ফিনিশিং—

এমন দৃশ্য শুধু কল্পনা নয়। ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে ঠিক এমনটাই দেখতে চলেছে ফুটবলবিশ্ব।

২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে স্বপ্ন বুনছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লক্ষ্য একটাই— ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জার্সিতে ষষ্ঠ তারকা যোগ করা।

২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতেই বিদায় নিতে হয়েছে সেলেসাওদের। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস বলে—ব্যর্থতার পরই আসে সবচেয়ে বড় পুনর্জন্ম। আর এবার সেই পুনর্জন্মের নাম—২০৩০, ফুটবলের শতবর্ষী বিশ্বকাপ। আর সেই উত্থানের মূল শক্তি হতে পারেন একদল তরুণ প্রতিভা।

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে শুরু হয়ে গেছে নতুন ব্রাজিল গড়ার কাজ। ফিফার তালিকায় উঠে এসেছে ২৫ বছরের কম বয়সী এমন ১০ প্রতিভা, যারা চোট বা দুর্ভাগ্যের কারণে এবার বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। কিন্তু ২০৩০ সালে এরাই হতে পারেন ব্রাজিলের নতুন মেরুদণ্ড।

আক্রমণভাগে ব্রাজিলের হাতে থাকছে দারুণ সব অস্ত্র। রাইট উইংয়ে এস্তেভাও হতে পারেন ভবিষ্যতের বড় তারকা। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তাঁর গতি, ড্রিবলিং আর সৃজনশীলতা নজর কেড়েছে। চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিস করলেও ২০৩০ বিশ্বকাপে তিনি হতে পারেন ব্রাজিলের আক্রমণের অন্যতম প্রধান মুখ।

আর গোল করার দায়িত্বে থাকবেন একাধিক বিকল্প। জোয়াও পেদ্রো—যিনি শুধু গোলই করেন না, সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করতে পারেন। কাইও জর্জ—যিনি স্ট্রাইকারের পাশাপাশি ‘ফলস নাইন’ হিসেবেও খেলতে পারেন। আর ভিটর রকি ও ইগর জেসুসের মতো শক্তিশালী ফরোয়ার্ডরা দিতে পারেন আক্রমণে নতুন মাত্রা।

মাঝমাঠেও আসছে বড় পরিবর্তন। পুরোনো দিনের ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ফুটবলের সঙ্গে এবার যোগ হচ্ছে আধুনিক ইউরোপিয়ান ধারার ভারসাম্য। আন্দ্রে সান্তোস হতে পারেন সেই পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ তৈরি করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। সঙ্গে থাকছেন জোয়াও গোমেস, যিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর পাশাপাশি সামনে উঠে গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেন।

রক্ষণভাগেও চলছে নতুন প্রজন্মের প্রস্তুতি। ভিটর রেইস হতে পারেন ব্রাজিলের ভবিষ্যতের ডিফেন্স লিডার। শক্তি, গতি আর বল নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা। দুই প্রান্তে কাইকি ব্রুনো ও ওয়েসলির মতো তরুণ ফুলব্যাকরা ফিরিয়ে আনতে পারেন সেই পুরোনো ব্রাজিলিয়ান আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঐতিহ্য; যে ঐতিহ্য একসময় রবের্তো কার্লোস, কাফু আর মার্সেলোদের হাত ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছিল।

সব মিলিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দলটা হতে পারে অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের দারুণ এক মিশ্রণ। ভিনিসিউস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েসদের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকার সঙ্গে যোগ হবে নতুন প্রজন্মের ক্ষুধার্ত প্রতিভারা। কার্লো আনচেলত্তির হাতে এখন দায়িত্ব—এই প্রতিভাগুলোকে এক সুতোয় গাঁথা। আর সেটা যদি ঠিকঠাক করতে পারেন ডন কার্লো, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের জার্সিতে যোগ হতে পারে বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই ষষ্ঠ তারকা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিল-নরওয়ে মহারণ আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়

1

যে কারণে ভেঙে যেতে পারে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধবিরতি

2

বৃষ্টির দিনে ঢাকার যানজট যেভাবে এড়িয়ে চলবেন

3

জুলাইয়ে শিক্ষার্থীরা পাবে পাটের ব্যাগ ও পোশাক

4

ঘটতে যাচ্ছে অবিশ্বাস্য ঘটনা, এমন কিছু আগে দেখেনি ফুটবল বিশ্ব

5

ফোনে কথা হয়েছে, মেসি আমাকে নিজের সই করা জার্সি পাঠাবে

6

সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্স কোচের ‘বার্তা’

7

খানজাহান আলীর মাজার দিঘিতে কুমির ফেরতের দাবি

8

নিরাপত্তা চুক্তি ছাড়া নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক নয়: জোসেফ আউন

9

মেসিকে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলাতে বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ স্বাক্ষরের প্র

10

বৈদেশিক বাজারে ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন

11

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু

12

বিশ্বকাপে গোলের সেঞ্চুরি নেদারল্যান্ডসের

13

হরমুজ দিয়ে সামরিক জাহাজ চলাচল নয়, সতর্ক করল ইরান

14

কথা কম বলে জবাবটা মাঠেই দিতে ভালোবাসি:রোমেরো

15

চুক্তি না হলে ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

16

দুই দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর

17

ইরানে পাল্টা হামলা চালাল ইসরায়েল

18

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত

19

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

20