স্কুলশিক্ষা সংস্কার ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সবাইকে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) এলিসি প্রাসাদ থেকে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ বিক্ষোভকারীদের দাবিদাওয়া এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকার মধ্যে পার্থক্য করার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লাগামহীন সহিংসতার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত এক মাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
রোববারও রাজধানী প্যারিস ও লিয়নের কয়েকটি এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব এলাকায় লুটপাটের খবরও পাওয়া যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসে শত শত বিক্ষোভকারীর ওপর কাঁদানে গ্যাস ও শব্দসৃষ্টিকারী গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোড়ে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে, অন্যদিকে সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।
মন্তব্য করুন