অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’ কার? রোনালদো নাকি মডরিচের

ছবি: সংগৃহীত




একজনের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে আকাশছোঁয়া লাফ কিংবা বজ্রগতির কোনো শট। অন্যজনের কথা মনে পড়লে ফুটে ওঠে নিখুঁত এক মিডফিল্ড অর্কেস্ট্রার ছবি। দুই চরিত্রের প্রথমজন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয়জন ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমণি লুকা মডরিচ।

শেষ ষোলোতে দুই দলের ম্যাচটি তাই শুধু দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি বিশ্ব ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তির একজনের ‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’-এর মতো বিদায়ের বিষাদে লেখা গল্পও হয়ে উঠতে চলেছে।

দুজনের বয়সই ৪০ ছাড়িয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪০ বছরের বেশি বয়সী দুই আউটফিল্ড ফুটবলার (গোলকিপার নন এমন ফুটবলার) একই ম্যাচে মুখোমুখি হবেন।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি ছিল শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলার। সেই বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রোনালদো ও মডরিচ। বয়সের সীমা পেরিয়ে তাঁরা যেন প্রমাণ করছেন, কিংবদন্তিদের ক্যালেন্ডার অন্য নিয়মে চলে।

তবে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া মহারণের আগে দুই তারকাকে নিয়ে কানাঘুষাও আছে। এর বড় অংশ জুড়ে যে প্রশ্নটি দেয়ালে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, সেটি হচ্ছে—দুজন এই মুহূর্তে দলের জন্য কতটা কার্যকর? ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদোর এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েই।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলে তা কিছুটা দমানো গিয়েছিল বটে। তবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদোর ফের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স সমালোচনা নতুন করে বেগবানও করেছে। ‘আমি ২৩ বছর ধরে পেশাদার ফুটবল খেলছি। যখনই কিছু খারাপ হয়, তখনই বলা হয়, ক্রিস্তিয়ানো শেষ, সে বুড়িয়ে গেছে’—এ কথায় রোনালদো অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ‘আউটসাইড নয়েজ’ তাঁকে বিচলিত করে না তেমন। নক আউটের বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে পর্তুগিজ সমর্থকরা তাই আশাবাদী হতেই পারেন।

তবু বিতর্ক থামছে না। মডরিচের ব্যাপারটা অবশ্য রোনালদোর মতো আলোচিত নয়। বরাবরের মতো নীরবতাই তাঁর সঙ্গী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ভরাডুবির প্রথম ম্যাচে তাঁকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘণ্টাখানেক পরে তুলে নেন কোচ জলাতকো দালিচ। ভাবা হচ্ছিল, বয়স হয়তো এবার সত্যিই তাঁকে ছুঁয়ে ফেলেছে। পানামার বিপক্ষে দলের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলেন ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর ঘানার বিপক্ষে নিকোলা ভ্লাসিচের জয়সূচক গোলে অসাধারণ অ্যাসিস্ট করে আবারও বুঝিয়ে দেন, বড় মঞ্চে তাঁর মস্তিষ্ক এখনো আগের মতোই তীক্ষ। 

সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়া—মাত্র ৪০ লাখ মানুষের একটি দেশকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ফুটবলের অভিজাতদের কাতারে তুলে আনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর তিনিই। মডরিচ কি আরেকবার পারবেন? নাকি এবার শেষ হাসিটা রোনালদোই হাসবেন! 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের চিঠি জাতিসংঘে: ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

1

বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট-হেলমেট পরে এই গরমে মরেই যাবো : সালমান এফ

2

নেইমারের ফেরায় উজ্জীবিত ব্রাজিল শিবির

3

ইতালির নতুন কোচ বালদিনি

4

অভিবাসী থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ইয়ামাল নিকোর সাফল্যের অনুপ্রের

5

ঈদে ‘শিরোনাম’ দিয়ে বড়পর্দায় ওমর সানী

6

৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে মেটা

7

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু কানাডার

8

জয়ের পর কেপ ভার্দের প্রশংসায় মেসি

9

জীবন কোনোদিনই সরল ছিল না: জয়া আহসান

10

পার্থকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন জামায়াত আমির

11

বিয়ে না করলে কি জান্নাত পাওয়া যাবে না

12

বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটল থাকবে: শি জিনপিং

13

জুনে হবে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন

14

বিশ্বে মহামারি বা বিপর্যয় নেমে আসলে নিরাপদ থাকবে অস্ট্রেলিয়া

15

২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সি নম্বর ঘোষণা

16

ব্রাজিল ম্যাচের আগে মরক্কো দলে দুই পরিবর্তন

17

জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, খুলে দেখলেন সব টাকা ঝাঁঝরা

18

শিশু অপ্রতীমের নির্মম মৃত্যুতে শোবিজ তারকাদের আহাজারি

19

বাবা-মেয়ের চিরন্তন ভালোবাসার গল্প

20