ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ট্রিগার ফিঙ্গারের কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসা

ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে হাতের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, আঙুল ভাঁজ করতে গেলে তা আটকে যাচ্ছে বা সোজা করার সময় ‘ক্লিক’ শব্দের সঙ্গে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। এই অবস্থাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘ট্রিগার ফিঙ্গার’ বা Stenosing Tenosynovitis।

এই সমস্যায় সাধারণত অনামিকা ও বৃদ্ধাঙুলি বেশি আক্রান্ত হয়। হাতের আঙুলের হাড়ের সঙ্গে পেশিকে যুক্ত করা টেনডন একটি সরু শিথের মধ্য দিয়ে চলাচল করে। কোনো কারণে এই টেনডন ফুলে গেলে বা শিথ সংকুচিত হয়ে গেলে আঙুলের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাধাগ্রস্ত হয়। তখন আঙুল আটকে যাওয়া, ব্যথা ও ‘ক্লিকিং’ অনুভূতি দেখা দেয়।

অনেক ক্ষেত্রে টেনডনের ওপর ছোট পিণ্ড বা নডিউল তৈরি হয়, যা চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। প্রাথমিক অবস্থায় এর সুনির্দিষ্ট কারণ সবসময় জানা যায় না, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ বড় ভূমিকা রাখে।

প্রধান লক্ষণগুলো

ট্রিগার ফিঙ্গারের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে সকালে ঘুম থেকে উঠে আঙুল শক্ত হয়ে থাকা, আঙুল ভাঁজ বা সোজা করার সময় ‘পপিং’ শব্দ, আঙুলের গোড়ায় ব্যথা ও ফোলা, এবং কিছু ক্ষেত্রে আঙুল পুরোপুরি লক হয়ে যাওয়া।

যারা নিয়মিত টাইপিং, সেলাই, বাগান করা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজ করেন, তাদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। এছাড়া ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও গাউট রোগীদের ঝুঁকি বেশি থাকে। নারীদের মধ্যে, বিশেষ করে ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আঙুলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন কাজ কমাতে হবে এবং দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে কাজ এড়িয়ে চলতে হবে।

রাতে স্প্লিন্ট ব্যবহার করলে আঙুল সোজা অবস্থায় থাকে এবং জড়তা কমে। ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

ফিজিওথেরাপি ট্রিগার ফিঙ্গারের অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা। এতে টেনডন গ্লাইডিং এক্সারসাইজ, স্ট্রেচিং, ম্যানুয়াল থেরাপি এবং আল্ট্রাসাউন্ড বা লেজার থেরাপির মাধ্যমে প্রদাহ কমানো হয়।

অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দিলে দ্রুত উন্নতি দেখা যায়। তবে জটিল বা দীর্ঘস্থায়ী অবস্থায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, আঙুলে ব্যথা বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে অর্থোপেডিক বা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই দ্রুত সুস্থতার মূল উপায়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এসে প্রথম স্বামীর হ

1

বিদায়ের পরও শান্তির বার্তা, হৃদয় ছুঁয়ে গেল ইরান

2

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহ

3

খরচের চাপে দিশেহারা মানুষ

4

ঈদের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত

5

নকআউট নিশ্চিত হয়েছে যাদের, অপেক্ষায় যারা

6

পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম উনি একজন ওস্তাদ : পরীমণি

7

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি নাকচ করল ইরান

8

জাম খাওয়ার পর এড়িয়ে চলুন এই ৪ খাবার

9

অনলাইনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার উপায়

10

ইরানসহ তিন দেশে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান

11

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ

12

রোনালদোকে নিয়ে সাবধানী স্পেন কোচ

13

প্রথম ম্যাচে স্পেনের প্রতিপক্ষ কেপ ভের্দে

14

আর্জেন্টিনোফোবিয়া: দলটিকে শান্তিতে জিততেও দেয়া হয় না, হার

15

দুই দশক পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন

16

খানজাহান আলীর মাজার দিঘিতে কুমির ফেরতের দাবি

17

একসঙ্গে মরব বলে যমুনায় ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক,পালালেন প্রেমিকা

18

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভরাডুবি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি পেলে কন্যার

19

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা—স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়

20