ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এসএসসি-২০২৬ খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের অনাগ্রহ

ছবি: সংগৃহীত

চলমান এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ঘিরে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিপুল সংখ্যক পরীক্ষক খাতা সংগ্রহ করতে না আসায় ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। তবে তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক পরীক্ষক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উত্তরপত্র সংগ্রহ করেননি, ফলে মূল্যায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাংলা প্রথম পত্রের ক্ষেত্রে প্রায় ২৩৫ জন পরীক্ষকের অনুপস্থিতি পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। ই-টিআইএফভুক্ত শিক্ষকদের মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সময় জানানো হলেও তারা খাতা সংগ্রহে উপস্থিত হননি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শেষ সুযোগ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও দায়িত্ব পালন না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, খাতা মূল্যায়নে এই ধরনের বিলম্ব পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে সাবেক শিক্ষাবিদরা বলছেন, এতে শুধু ফল প্রকাশই দেরি হয় না, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপও বাড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার পর ফল প্রকাশ পর্যন্ত সময়টি তাদের জন্য অত্যন্ত চাপের। অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অভিভাবকরাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাড়াহুড়ো করে খাতা মূল্যায়ন করলে ভুলের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

ঢাকা আইডিয়াল স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সময়মতো খাতা মূল্যায়ন না হলে পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হয় এবং এর প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়ে।

অন্যদিকে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী পরীক্ষকদের দায়িত্বহীনতাকে নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। এ ধরনের অবহেলা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর বার্তা দেয়।

সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, নির্ধারিত সময় কমে গেলে মূল্যায়নে ত্রুটির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং পুনর্মূল্যায়নের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সময়মতো খাতা মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। তবে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বোর্ড বলেছে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ফল প্রকাশ বিলম্বিত হতে দেওয়া হবে না।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাসপাতালে অনেকটা সুস্থ আছেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু:

1

দিল্লিতে পুতিন-মোদি বৈঠক, যা আলোচনা হলো

2

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ড. সাইমুম পারভেজ

3

কানাডাকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

4

ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলির ঘটনায় ওবামার নিন্দা

5

জলবায়ু সংকট মোকাবিলা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

6

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি

7

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আত্মসমর্পণ করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

8

ইরান ম্যাচে ছিটকে গেছেন বেলজিয়ামের ডোকু

9

বিশ্বকাপের দুই ম্যাচে বেটিং সন্দেহ, তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্

10

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের রোডম্যাপে অগ্রগতি

11

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইউক্রেনে রুশ হামলা

12

বাড়ি বন্ধক-ব্যাংকঋণ নেওয়া দিয়া মির্জা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল

13

বাংলাদেশের খুনের ব্যাপারে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামল

14

প্রাক্তনকে ভুলতে কতদিন সময় লাগে? যা বলছে বিজ্ঞান

15

জ্বালানি তেল নিয়ে নাটক করলো সরকার

16

গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত

17

বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

18

‘মেসিই সর্বকালের সেরা’, বললেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার

19

নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় মেসি

20