প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি কর ব্যবস্থায় বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শুক্রবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অপ্রদর্শিত বা অনিয়মিতভাবে অর্জিত অর্থ নামমাত্র কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া নৈতিকতার পরিপন্থী। তার মতে, এ ধরনের নীতি কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ করদাতারা নিয়ম মেনে আয়কর পরিশোধ করলেও কালো টাকার মালিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে, যা সৎ করদাতাদের প্রতি অন্যায্য আচরণের শামিল। এর ফলে কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি এবং নিয়মিত কর প্রদানকারীদের মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য তৈরি হয়।
সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দীর্ঘমেয়াদে কর সংস্কৃতিকে দুর্বল করতে পারে। কারণ এতে করদাতাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, ভবিষ্যতেও অনিয়মিত আয়কে কম খরচে বৈধ করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
সংস্থাটি মনে করে, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও কর ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক করনীতি অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি কর আদায়ের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাজেট নিয়ে সিপিডির এই পর্যবেক্ষণ নতুন করে করনীতি, জবাবদিহিতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন