ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে তারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্দাউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জানান, এই সংকটময় সময়ে ভেনেজুয়েলার মানুষের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তিনি দুর্গতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই কম্পনে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, বিভিন্ন শহরে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় অঞ্চল কাতিয়া লা মারে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি জনসাধারণ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছে। অনেক পরিবারকে শিশু ও পোষা প্রাণী নিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল ভূমিকম্পের কেন্দ্র হওয়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এতে জ্বালানি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন