বিশ্বকাপে ২০০৬-এর পর এটিই হতে যাচ্ছে দুই দলের প্রথম দেখা। জার্মানি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিল জাপান। চফুতে গত বছর প্রথম জয়ের আগে ১৩ ম্যাচের শুধু দুটি ড্র ছিল। আর সব কটিই জেতে ব্রাজিল। কিন্তু সর্বশেষ জয়টাই এখন জাপানিদের সামনে অনুপ্রেরণা। মরিয়াসু যেমন বলেছেন, “গত বছর আমরা ওদের হারিয়েছিলাম, এটিই এখন আমাদের উজ্জীবিত করছে। আর ব্রাজিলও এখন আমাদের আগের মতো সহজভাবে নেবে না, আমি নিশ্চিত। এই ম্যাচে বরং এক ‘সিরিয়াস ব্রাজিল’কে আমরা দেখব। ওদের বিশ্বমানের সব খেলোয়াড় আছে। অবশ্যই ওদের আমরা সমীহ করি। তবে মাঠে যেকোনো কিছুই হতে পারে।” গত বছর বিশ্বকাপ বাছাই শেষ হওয়ার পরপরই এশিয়া সফরে কোরিয়ার পর জাপানের বিপক্ষে সেই ম্যাচটা খেলেছিল সেলেসাওরা। কার্লো আনচেলোত্তি তখন নতুন, দলটাকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে ছিলেন। জাপান তাদের কোনো সুযোগ দেয়নি।
কিন্তু হিউস্টনে আগামীকাল বর্তমান ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানিদের আসল পরীক্ষা। সেটি মরিয়াসুও বলেছেন, ‘জাপান যদি বিশ্বসেরা হতে চায়, এই ধরনের ম্যাচেই নিজেদের প্রমাণ দিতে হবে।’ জাপান সেই পথে আছে মানতেই হবে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই তারা ৭ গোল দিয়েছে, নিজেদের গত আসরের গোলসংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে তারা এর মধ্যেই। আর জাপানকে নিয়ে ব্রাজিলকে সতর্ক করা হচ্ছে আসলে নানা দিক থেকেই। চোটের কারণে আনচেলোত্তির এই দলে থাকতে না পারা এদের মিলিতাও যেমন বলেছেন, ‘আমার মনে হয় জাপান তাদের সেরা বছরটা পার করছে এবার। নিজেদের ক্রম উন্নতিতে একটা দল হিসেবেই এই জায়গাটায় পৌঁছেছে ওরা। আমাদের তাই সতর্ক হতে হবে। মাঠে কিন্তু ওরা দম হারাবে না। সুযোগ পেলে নক আউট পাঞ্চ দিতেও সময় নেবে না। ট্যাকটিক্যালি ওরা অসাধারণ, খেলোয়াড়রাও প্রত্যেকে নিবেদিত।’ একই কথা বলেছেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা জিকো, ‘ব্রাজিলের চ্যালেঞ্জ নিতে এই জাপান এখন তৈরি। তারা এখন সেই পর্যায়ে খেলছে। তাদের খেলোয়াড়রা সব এখন ইউরোপে খেলে, যেমন খেলে লাতিনরা। জাপানের বর্তমান স্কোয়াডের ২৬ জনের ২৩ জনই ইউরোপে খেলে, সিরি এ, বুন্দেস লিগা, প্রিমিয়ার লিগে। তো তারা এখন যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলতে তৈরি।’
ব্রাজিলকে তাই পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখছে ‘ব্লু সামুরাই’রা।