অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রংপুরে ৪ খুন: যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না

ছবি: সংগৃহীত



রংপুর নগরীতে জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে মহানগর পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের ব্যাখ্যার বিপরীতে কিছু বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ও ঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশেই সীমান্ত নামের একজনের বাসার বসে ইয়াবা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে ছাদে গিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়।


সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবনের পর ওই বাসার ছাদে কেন?

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার দুজন জানিয়েছে তারা ওই রাতে পাশেই সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছে। পরে শেষ রাতের দিকে দেবু নামের এক ব্যক্তির তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে লাফ দিয়ে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেন।

এ সময় পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, অভিযুক্তরা ইয়াবা সেবনের জন্য দেবু নামের ওই ব্যক্তির নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনের নির্মানাধীন তিন তলার পুরো ফাকা ‘স্পেস’ ও ছাদ ব্যবহার না করে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে কেন গেলেন?

এ সময় তিনি বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এই হত্যাকান্ড নিয়ে মামলার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আমি আলহামদুলিল্লাহ বলব। আমি আপনাদের বলব পুলিশের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করবেন এবং নেগেটিভ কাজের সমালোচনা করবেন। শেষে কথাটা বলব আমার উপর আস্থা রাখতে পারেন।’-এই কথা বলে তিনি ব্রিফিং সমাপ্ত করেন।

ঘুমিয়ে থাকা প্রিয়মকে খুন করতে হলো কেন?

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘আর এই যে ৪টা খুন হয়েছে, ৪টা খুন একের পর এক হয়েছে। প্রথমে গণপতি চক্রবর্তী স্যারকে খুন করা হয়।স্যারের গোঙানির শব্দ পেয়ে তার ওয়াইফ প্রীতিলতা ম্যাডাম যখন যাচ্ছিলেন, তখন তাকে খুন করা হয়। তার শব্দ পেয়ে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী যখন আসছিলেন, তখন তাকেও খুন করা হয়। সবশেষে ঘুমিয়ে থাকা নিষ্পাপ শিশুটাকে খুন করা হয়।’

পুলিশের এই বক্তব্যের পরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে একজন হত্যার সময় অন্য কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পড়লে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রিয়ম তো ঘুমিয়েই ছিল। তাহলে তাকে হত্যার প্রয়োজন কেন মনে করেছিল হত্যাকারীরা?
রংপুরে ৪ খুন: যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল কে?:

মাছুয়া পাড়ার যে বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেই বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের আগে নাকি পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল সে তথ্য এখনো জানা যায়নি।

খবর পেয়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখতে পান। পরে তারা পুনরায় সংযোগ চালু করে তদন্ত কাজ শুরু করেন। তাহলে প্রশ্ন হল এই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কখন করা হয়েছিল এবং কারা করেছিল?

হত্যার আগে বোনকে কল দিয়েছিলেন প্রীতিলতা চক্রবর্তী:

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দেন গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী। কথোপকথন শুরুতে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী তার খালার সাথে কথা বলেন। পরে দুই বোনের মধ্যে পাঁচ মিনিটের মতো সময় ধরে কথোপকথন হয়।

পূজা চক্রবর্তী কালবেলাকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কথা বলার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন শুক্রবার দেখেন রাত ২টা ৪০ মিনিটে তার বোন তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েছিলেন। কিন্ত মোবাইলের ডাটা কানেকশন বন্ধ করে রাখায় সেই কল তিনি পাননি।পরবর্তীতে কল ব্যাক করলেও তার ফোনে আর কল ঢোকেনি।

হঠাৎ করেই দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে শুরু করেছিলেন গণপতি :

গত বছরের ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার প্রায় দুমাস আগ থেকে হঠাৎ করেই ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমানো শুরু করেন গণপতি চক্রবর্তী। তার সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীও ঘুমাতেন।

গণপতি চক্রবর্তী এর স্ত্রীর ছোট বোন ছোটবোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, ‘দিদি আমার বাসায় এসে হঠাৎ বলে তোর জামাইবাবু ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমানো শুরু করেছে। তিনি সম্ভবত কোন ভয়ে ছিলেন।’

বাড়ি নির্মাণের সময় পেয়েছিলেন ‘থ্রেট’, মীমাংসা করেছিলেন গণপতি:

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। এর আগে তিনি স্কুলের পাশে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

দুই-তিন বছর আগে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে শুরু করেন। তবে এ সময় কিছু ব্যক্তিদের কাছ থেকে ‘থ্রেট’ পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন গনপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী এর মেয়ের জামাই বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী।

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী কালবেলাকে বলেন, ‘আমার কাকা শ্বশুর আমাকে বলেছিলেন তাকে নাকি কারা হুমকি দেন। আমি তার কাছে বারবার সেসব ব্যক্তির নাম শুনতে চাইলেও তিনি বলেননি। পরে জানান যে তাদের সাথে মীমাংসা করে ফেলেছেন। তিনি খুবই চাপা স্বভাবের মানুষ ছিলেন।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেনজীরের জামিন বাতিলে ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রম

1

১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল চীন

2

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবির তৎপরতা জ

3

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

4

মৃত্যুর ৩০ বছর পরও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি সালমান শাহর

5

৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

6

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে কত খরচ হচ্ছে ভারতের? জেনে নিন

7

জাপানে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প

8

নিরাপত্তা চুক্তি ছাড়া নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক নয়: জোসেফ আউন

9

পাকিস্তানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার শান্তি বৈঠ

10

ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে বিশ্বকাপে আলোচনায় ইরান

11

৫,৩০০ বছর পুরোনো মমিতে মিলল জীবন্ত অণুজীবের সন্ধান

12

বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীতে সবজির দাম বেড়েছে

13

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

14

বিশ্বকাপের আগে ইরানের অভিযোগ, স্টাফদের ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট

15

মার্কিন অবরোধেও অন্তত ৪ মাস টিকে থাকতে পারবে ইরান

16

ভারত ও চীন ‘বাবা-মা’র মতো’, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

17

পুতিন ও জেলেনস্কি বৈঠক দু’সপ্তাহের মধ্যে: জার্মান চ্যান্সেলর

18

স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বগতি

19

ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, নয়তো ট্রাম্পের হাতে বিকল্প রয়

20