অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবরের এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে সফর থেকে ঘোষণার বাইরে বাস্তব অর্জন নিশ্চিত করতে হলে আগাম প্রস্তুতি, নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং ধারাবাহিক তদারকি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি স্বাধীনতার পরপরই গড়ে ওঠে। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে জাপান। এরপর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বজায় রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নেও জাপানের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। যমুনা বহুমুখী সেতু, ঢাকার মেট্রোরেল এবং যমুনা রেলসেতুতে জাপানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দেশের পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। ২০১৪ সালে ঘোষিত বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা বিগ-বি উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামো, শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। মাতারবাড়ী ও আড়াইহাজারকে কেন্দ্র করে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। তবে চলমান ও সম্পন্ন প্রকল্পের সুফল উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসায় কতটা যুক্ত হচ্ছে, তা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সফরে বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হতে পারে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএর সুফল কাজে লাগানোর প্রস্তুতি। চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া, শুল্কনীতি, পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত নিয়ম, প্রয়োজনীয় সনদ এবং কাস্টমস ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও হালকা প্রকৌশল খাতে জাপানের বাজারে প্রবেশের সুযোগ যাচাই করা প্রয়োজন। এসব সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানিতে রূপ দিতে পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ এবং ধারাবাহিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পরিবর্তে প্রস্তুত জমি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি, উন্নত পরিবহন সংযোগ এবং দ্রুত অনুমোদনব্যবস্থাসহ বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ প্রস্তাব উপস্থাপন করা যেতে পারে। আড়াইহাজার অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্যাকেজিং এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্ভাবনা যাচাই করা প্রয়োজন। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কোম্পানি ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে উৎসাহিত করা গেলে স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ বাড়বে।

বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতাও জরুরি। ব্যবসায়িক অনুমোদন, শুল্ক প্রয়োগ এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনিয়োগসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা এবং একই ধরনের সংস্কারের সুফল দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। এতে সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হবে।

অবকাঠামো সহযোগিতার ক্ষেত্রে মাতারবাড়ী বন্দর এবং মহেশখালী–মাতারবাড়ী অঞ্চলের উন্নয়নকে সড়ক, রেল, গুদাম, কাস্টমস ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল কাস্টমস, ঝুঁকিভিত্তিক পণ্য পরীক্ষা, পরিচালন প্রশিক্ষণ এবং তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে ঋণের শর্ত, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পরিশোধের চাপ এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে অবকাঠামো সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব বাড়বে।

মানবসম্পদ উন্নয়নেও বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে দক্ষ কর্মীসংক্রান্ত যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, সেটিকে জাপানের নিয়োগদাতাদের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। যৌথ পাঠ্যক্রমে জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ চুক্তি, নিয়োগ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ, অসাধু মধ্যস্থতাকারীদের প্রতিরোধ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গুরুত্ব পেতে পারে। শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো নয়, তাঁদের দক্ষতা, আয় ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। জাপানি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশে যৌথ কারখানা স্থাপন এবং দেশে ফিরে আসা দক্ষ কর্মীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা যেতে পারে। যোগ্যতার স্বীকৃতি, গবেষণার পরিবেশ এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হলে প্রবাসে অর্জিত দক্ষতা দেশে কাজে লাগানো সহজ হবে। এর ফলে অভিবাসনের সুফল শুধু রেমিট্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; উৎপাদন, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতেও অবদান রাখবে।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিকাশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে। সত্তরের দশকের শেষভাগে দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ুর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত কর্মীদের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জ্ঞান পরবর্তী সময়ে দেশের পোশাকশিল্পের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, বিদেশি অংশীদারত্বের স্থায়ী সুফল কেবল বিনিয়োগে নয়, মানুষের দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও নিহিত। জাপানের সঙ্গে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সময়ও প্রকল্প শেষ হওয়ার পর দেশে কী ধরনের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও পরিচালন সক্ষমতা থেকে যাচ্ছে, তা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাপানি অংশীদারদের যৌথ গবেষণা এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। প্রযুক্তি আমদানির পাশাপাশি সেটি পরিচালনা, মেরামত এবং বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজনের সক্ষমতা গড়ে তোলাও জরুরি।

পরিবেশ ও জ্বালানি খাতেও নতুন সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হওয়া সহযোগিতা-সংক্রান্ত সমঝোতা কাজে লাগিয়ে শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এসব প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও হ্রাস পেতে পারে।

জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগকে বাংলাদেশের বৃহত্তর পূর্ব এশিয়া কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। চীনের উৎপাদন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক, জাপানের শিল্পপ্রযুক্তি ও মান ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সমন্বয় করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত উন্নয়নকেন্দ্রিক কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা। অর্থাৎ, প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করেও জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক আস্থা এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা।

জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা পরস্পরবিরোধী না হয়ে বাংলাদেশের জন্য পরিপূরক সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ ধরনের অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ঋণের স্থায়িত্ব, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, তথ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিন্ন ও স্বচ্ছ নীতিমালা অনুসরণ করলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বাজার এবং পূর্ব এশিয়ার উৎপাদনব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সংযোগস্থল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এর জন্য সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা, আধুনিক কাস্টমস কার্যক্রম এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন, মেরামতসেবা, গবেষণা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিকশিত করা গেলে আঞ্চলিক যোগাযোগের অর্থনৈতিক সুফল দেশের ভেতরে ধরে রাখা সম্ভব হবে। অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনাও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।

আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের জন্য একটি সুসংহত পূর্ব এশিয়া সহযোগিতা পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্প খাত, স্থানীয় সরবরাহকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, যৌথ গবেষণা এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের পর্যায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য শর্তে স্থানীয় ক্রয় ও প্রযুক্তি শেখার সুযোগ বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। পরিকল্পনার সাফল্য পরিমাপে শুধু ঘোষিত বিনিয়োগ নয়, বাস্তবে বিনিয়োগের অর্থপ্রবাহ, দেশীয় মূল্য সংযোজন, কর্মীদের আয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার উন্নতিকেও সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, দুর্যোগের সময় পারস্পরিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক আইন এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে জাপানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর থেকে পাওয়া সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ দিতে সফর শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার পদ্ধতিসহ একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করা প্রয়োজন। ছয় মাস ও এক বছর পর অগ্রগতি মূল্যায়নের সময় ঘোষিত বিনিয়োগ, প্রকৃত অর্থপ্রবাহ, উৎপাদন, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের ফলাফল আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হবে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক আস্থাকে টেকসই শিল্পায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় রূপান্তর করা। অবকাঠামোর সঙ্গে উৎপাদন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সঙ্গে জ্ঞান ও দক্ষতার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে জাপানের সঙ্গে পাঁচ দশকের অংশীদারত্ব বাংলাদেশের পরবর্তী দশকের অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে ২০০-এর বেশি গ্রেপ্তার

1

কুড়িগ্রামের চরে বিজিবির ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

2

‘তুমি সারা বিশ্বের লাখো শিশুর অনুপ্রেরণা’, মেসির অবসরে বেকহ্

3

তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে ব্যাংক

4

হামলায় আহত ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খারাজি মারা গেছেন

5

১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

6

বাবার ‘প্রতারণায়’ দেউলিয়ার পথে ব্রাজিল তারকা রাফিনিয়া

7

বিশ্বকাপ খেলে ২৫০ কোটি টাকা পাচ্ছে কেপ ভার্দে

8

গোলাম সারোয়ার মিলনের জানাজা সম্পন্ন

9

ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেশপ্রেমহ

10

ম্যাচের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দিল নরওয়ে

11

তিস্তাপাড়ে ভালবাসার বাজারে এক টাকায় ঈদের বাজার

12

মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে

13

‘সবকিছুই তার ইচ্ছের ওপর’, ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির খেলা প্রসঙ্গে

14

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

15

বিরোধীদের লক্ষ্য দেশকে অশান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী

16

সৌদি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আগুনে ক্ষতিগ

17

আগামীকাল থেকে শুরু এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

18

সেমিতে কে কার মুখোমুখি, খেলা কবে-কখন

19

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্তের মুখ

20