অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে ওঠার পূর্বাভাস আইএমএফের

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সময়ে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এসব পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল আইএমএফ। নতুন প্রতিবেদনে সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট। জুলাইয়ে সংস্থাটির পূর্বাভাস ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধির হিসাব কমে আসায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও আইএমএফের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। এপ্রিলে সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল। নতুন পূর্বাভাসে তা বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের হিসাবের তুলনায় মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন উচ্চপর্যায়ে থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি চাপে পড়েন। খাদ্যপণ্য, পরিবহন, বাসস্থান ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লে পরিবারের সঞ্চয় কমে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে গিয়ে অন্যান্য খাতে খরচ কমানোর প্রবণতা তৈরি হয়, যা বাজারের চাহিদা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রবৃদ্ধি কমলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমে আসাও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল হলে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে আইএমএফের পূর্বাভাস থেকে প্রবৃদ্ধি কমার নির্দিষ্ট কারণগুলো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রাজস্ব আয় ও আর্থিক খাতের তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংক ও এডিবির পূর্বাভাসও প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবের চেয়েও কম। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসাবে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ।

তিনটি সংস্থার পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ে সতর্কতার ইঙ্গিত রয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধি

আইএমএফের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির গতি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ—দুটি বিষয়ই নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম

আইএমএফের পূর্বাভাসে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রবৃদ্ধির চিত্র বাংলাদেশের তুলনায় শক্তিশালী। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ এবং ভুটানের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

এই পরিসংখ্যান থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারে পার্থক্য দেখা যায়। তবে প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, নীতিগত পরিস্থিতি, বিনিয়োগ এবং প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি আলাদা। তাই তুলনা করার ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সংস্কার ও অর্থনৈতিক নীতির দিকে নজর

ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকের মধ্যেই সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থনীতির সামনে এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার মতো বিষয়গুলোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সব মিলিয়ে, আইএমএফের নতুন পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও স্পষ্ট করেছে। আগামী দিনে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধ ও সময়সীমার চাপে ট্রাম্প

1

ফ্রান্সের প্রধান কোচ হচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী জিদান

2

আগুন ভেদ করে প্রত্যাবর্তন

3

বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর বাড়ছে নির্ভরতা

4

বিশ্বকাপে লোগো ঢেকে আলোচনায় জিলেটের অভিনব কৌশল

5

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও দূরে

6

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ফিরছেন নেইমার

7

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : ডিএমপি

8

কথায় কথায় কসম ও কাফফারার বিধান

9

লাখ ছাড়াল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিটের দাম

10

ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকবে

11

শাহবাগ ঘটনায় ছাত্রদলের তদন্ত কমিটি গঠন

12

তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

13

ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারেনি যে দুই দল

14

শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের মামলার প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

15

হাদি হত্যা ইস্যুতে বিস্ফোরক দাবি মমতার

16

লাকী আখান্দ স্মরণে বাপ্পা মজুমদার

17

শিক্ষা ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন: ডিসেম্বরেই এসএসসি ও এইচএসসি

18

সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করল আদালত

19

হুথিদের যুদ্ধে জড়ানোতে নতুন বিপর্যয়ের শঙ্কায় ইয়েমেনিরা

20