অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ওবায়দুল কাদের-সাদ্দামসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত



জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

মামলার রায়ে দণ্ডিত সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের সাত ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে দুই আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর চার আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহবান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ও আমার চেয়েও বড় হবে’ ছেলেকে নিয়ে রোনালদোর বড় স্বপ্ন

1

আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আরেকটা বিয়ে করবে পরীমণি

2

বলসোনারোর সাজা কমানোর আইন স্থগিত করল ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট

3

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টাগ্রামে আসছে পেইড ফিচার

4

মেসির বোঝা কমাতে আর্জেন্টিনার একাদশে আসছে ৩ বদল

5

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফর

6

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক ডন কারাগারে

7

বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল পাস

8

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিল ইরান

9

পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সুজিত বসু

10

আধুনিক স্ট্রিট লাইটে ঝলমল করছে লালমনিরহাট

11

প্রেম ও রোমান্স নির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ বন্ধে আইনি নোটিশ

12

রামিসা হত্যা রায় দ্রুত কার্যকরের ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর

13

পেনাল্টি মিসে রাগ হলেও ভুল শুধরে নিলেন মেসি

14

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু

15

অসুস্থতায় অরল্যান্ডোর কনসার্ট বাতিল করলেন চার্লি পুথ

16

যুক্তরাষ্ট্রে ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ইরাকি তারকা হুসেন

17

ইরানসহ তিন দেশে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান

18

হামের উপসর্গে একদিনে ১৬ শিশুর মৃত্যু

19

ভিনির জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউটে ব্রাজিল

20