অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে ‘ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের কোনো প্রমাণ পাইনি’

ছবি: সংগৃহীত



আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

তিনি বলেছেন, ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর তার কাছে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি, যা থেকে বলা যায় ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো একটি দলকে সুবিধা দিতে চেয়েছিল।

এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবলের সঙ্গে তার সম্পর্ক কয়েক দশকের। রেফারিং, প্রতিযোগিতা পরিচালনা এবং খেলার আইন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, কোনো একটি সিদ্ধান্ত যখন বিশ্বজুড়ে এত বড় বিতর্কের জন্ম দেয়, তখন সেটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা দায়িত্বের অংশ।

তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি একবার বা দু’বার নয়, দশবারেরও বেশি দেখেছেন। প্রতিটি ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল থামিয়ে থামিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ভিএআর যোগাযোগ এবং বিভিন্ন রিপ্লেও খতিয়ে দেখেছেন।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি এটি করিনি আর্জেন্টিনা জড়িত ছিল বলে, কিংবা মিশর ছিল বলে। করেছি কারণ ফুটবলে মতামতের আগে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।’

ফিফা সভাপতি বলেন, পর্যালোচনার পর তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই।

তার ভাষায়, ‘মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে, দ্বিমত পোষণ করতেই পারে। সেটাই ফুটবল। কিন্তু মতবিরোধ মানেই ষড়যন্ত্র এমন ধারণা সঠিক নয়।’

ইনফান্তিনো স্মরণ করিয়ে দেন, ভিএআর প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল কমানোর জন্য, ফুটবল থেকে সব ধরনের বিতর্ক চিরতরে দূর করার জন্য নয়। কারণ এই খেলায় এমন অনেক মুহূর্ত থাকে, যেখানে সিদ্ধান্ত নির্ভর করে রেফারির বিচার-বিবেচনার ওপর।

তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি কেন মিশরের সমর্থকেরা হতাশ। একই সঙ্গে এটাও বুঝতে পারি, কেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মনে করেন সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল। এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে, এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন।’

ফিফা সভাপতির মতে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ কোনো একটি দেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা নয়; বরং খেলার আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, রেফারিং বিভাগ যদি মনে করে কোনো ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তাহলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মতো এই ম্যাচের প্রতিটি বিতর্কিত ঘটনাও পর্যালোচনা করা হবে।

ইনফান্তিনো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো রেফারি পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নন। কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের বাইরে নয়। এভাবেই ফুটবল প্রতিনিয়ত আরও উন্নত হয়।”

বিবৃতির শেষাংশে তিনি ফুটবলের প্রতি আস্থা অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আবেগ থাকবে, বিতর্কও থাকবে। কিন্তু ফুটবলের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হয় স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়। ফুটবল সবার, আর এর সততা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একটি ছেলে ফোন করে ১ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে: নিহত আজমুলের বা

1

পদ্মায় ট্রলারডুবি, ২৩ গরুসহ নিখোঁজ খামারি

2

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে মেসি

3

ইরানকে ঘিরে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র

4

হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলামকে গ্রেফতার

5

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের শক্তির হাতে নির্ধারিত হতে পার

6

কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না : ইরানের প্রেসিডেন্ট

7

বাংলাদেশকে জরিমানা করল আইসিসি

8

বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে এবার সৌদিতে সর্বোচ্চ ভবন

9

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

10

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ব আমরা: কেপ ভার্দে প্রেসিডেন্

11

মাদারীপুরে একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার

12

বিয়েতে নতুন জামাইকে কেন আস্ত খাসি দেওয়া হয়?

13

পদ্মা সেতুতে স্বস্তির ঈদযাত্রা

14

ইরাক দিক থেকে কুয়েত সীমান্তে ড্রোন হামলা

15

জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর

16

প্রথমবারের মতো ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করল সৌদি

17

বসতি স্থাপন ইস্যুতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইউরোপের নতুন চাপ

18

মেসি পুরো ম্যাচে ক্রীড়াসুলভ ছিল: বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

19

নারী সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপির

20